হোম / দেশজুড়ে / আগামীকাল গাইবান্ধায় রাত পোহালেই ভোটের লড়াই
Gaibandha

আগামীকাল গাইবান্ধায় রাত পোহালেই ভোটের লড়াই

 গাইবান্ধা প্রতিনিধি:

রাত পোহালেই ভোটের লড়াই। উৎসব-উত্তেজনা, উদ্বেগ-উৎকণ্ঠা। গাইবান্ধা-১ (সুন্দরগঞ্জ) আসেনর উপ-নির্বাচনে সাংসদ নির্বাচনের অপেক্ষায় উপজেলার ৩ লাখ ৩৩ হাজার ৫শ’ ৫৬ জন ভোটার। প্রস্তুত নির্বাচন কমিশনও। ইতোমধ্যে নির্বাচন অনুষ্ঠানের সব ধরনের প্রস্তুতি সম্পন্ন করা হয়েছে। প্রতিদ্বন্দ্বী প্রার্থীরাও তাদের আনুষ্ঠানিক প্রচারণার ইতি টেনেছেন।

রবিবার দিবাগত রাত ১২টার পর থেকে শেষ হয় শেষ মুহূর্তের জমজমাট প্রচার। প্রতিদ্বন্দ্বী আওয়ামী লীগ ও জাতীয় পার্টিসহ অন্যান্য প্রার্থীরা ভোট গ্রহণের প্রস্তুতি নিতে শুরু করেছেন। নৌকা ও লাঙ্গল প্রতীকের সরাসরি লড়াই দেখতে যাচ্ছে সুন্দরগঞ্জবাসী। দুই দলের নেতারাই নির্বাচনকে প্রেস্টিজ ইস্যু হিসেবে দেখছেন। তাই দুই দলের শীর্ষ নেতারা এখন সুন্দরগঞ্জে।

জাতীয় পার্টির চেয়ারম্যানসহ দলের শীর্ষ নেতৃবৃন্দ এবং আওয়ামী লীগের কেন্দ্রীয় নেতারা ইতোমধ্যে সুন্দরগঞ্জে নির্বাচনী প্রচারণায় অংশ নিয়েছেন। কেন্দ্রীয় নেতাদের সরব উপস্থিতির কারণে এ নির্বাচনে রীতিমতো উৎসবের আবহ তৈরি হয়েছে। ভোটারদের দৃষ্টি আকর্ষণে কেন্দ্রীয় নেতারা নিরন্তর চেষ্টা করে যাচ্ছেন। প্রচারের শেষ দিন রবিবারও প্রার্থীদের নানা প্রতিশ্রুতি দিতে দেখা যায়। ভোটারদেরও প্রার্থীদের প্রতিশ্রুতির বিচার-বিশ্লেষণ করতে দেখা যায়। সুন্দরগঞ্জের অফিস-আদালত, চায়ের আড্ডা, মাঠে-ঘাটে আলোচনায় প্রাধান্য পাচ্ছে নির্বাচন।

এদিকে প্রচারের শেষদিনে আ’লীগের প্রার্থী আফরুজা বারী উপজেলা শহর এলাকায় প্রচারণা চালান। তিনি বর্তমান সরকারের উন্নয়নের ধারা অব্যাহত রাখতে নৌকায় ভোট দেয়ার অনুরোধ জানিয়েছেন।

সকালে কর্মী-সমর্থকদের নিয়ে প্রচারে বের হন জাতীয় পার্টির প্রার্থী ব্যারিস্টার শামীম হায়দার পাটোয়ারী। সাবেক রাষ্ট্রপতি ও দলের চেয়ারম্যান হুসেইন মুহম্মদ এরশাদের হাত শক্তিশালী করতে ভোট চেয়েছেন তিনি। দুপুরে উপজেলা জাতীয় পার্টি কার্যালয়ে সংবাদ সম্মেলন করেন ব্যারিস্টার শামীম। এসময় তিনি কেন্দ্র দখলে নিয়ে নৌকায় জবরদস্তি সিল মারার আশংকা প্রকাশ করেন।

সরেজমিন এলাকা ঘুরে দেখা গেছে, উপজেলা শহরের অলিগলি সর্বত্রই পোস্টার ও প্রতীকের ছড়াছড়ি। প্রার্থীদের মাইকিংয়ে পুরো উপজেলা উৎসবমুখর পরিবেশে রূপ নিয়েছে। প্রার্থী ও তাদের সমর্থকরা বাড়ি বাড়ি গিয়ে ভোট চাচ্ছেন।

এদিকে ভোট সামনে রেখে সুন্দরগঞ্জে পুলিশ, র্যাবও বিজিবির টহল অব্যাহত রয়েছে। তবে আইনশৃঙ্খলা বাহিনীর সামনেও আচরণবিধি লংঘনের দৃশ্য দেখা গেছে। নিষিদ্ধ হলেও উপজেলার বিভিন্ন স্থানে ইজিবাইক মহড়া ও মিছিল করতে দেখা গেছে। রবিবার দিবাগত রাত থেকে ভোটের পরদিন ১৪ মার্চ পর্যন্ত উপজেলায় যানবাহন চলাচলের ওপর বিধি-নিষেধ আরোপ করা হয়েছে।

গাইবান্ধা-১ সুন্দরগঞ্জ আসনে দ্বিতীয় দফা উপ-নির্বাচনে রাত পোহালেই কাল মঙ্গলবার (১৩ মার্চ) সকাল থেকে শুরু হবে ভোটগ্রহন। নির্বাচনের সার্বিক পরিস্থিতি নিয়ে জানতে চাইলে উপজেলা নির্বাহী অফিসার (ইউএনও) এস.এম গোলাম কিবরিয়া বলেন, নির্বাচনের পরিবেশ ও পরিস্থিতি অত্যন্ত ভালো রয়েছে। উৎসবমুখর পরিবেশ বজায় রয়েছে। আমরা ভোট গ্রহণের সব ধরনের প্রস্তুতি নিচ্ছি। আজ সোমবার নির্বাচনী সামগ্রী বিতরণ করা হচ্ছে।

সুন্দরগঞ্জের পৌর এলাকাসহ উপজেলার ১৫ টি ইউনিয়নে মোট ভোটার ৩ লাখ ৩৩ হাজার ৫শ’ ৫৬ জন। এরমধ্যে পুরুষ ভোটার ১ লাখ ৬৪ হাজার ৯শ’ ৩৪ জন আর মহিলা ভোটার ১ লাখ ৭৩ হাজার ৬শ’ ২২ জন। উপজেলার মোট ১০৯ টি ভোট কেন্দ্রে ৬শ’ ৪৭টি বুথে ভোট গ্রহন করা হবে। ভোট গ্রহন কাজে ১শ’ ৯জন প্রিজাইডিং অফিসার, ৬শ’ ৪৭ জন সহকারী প্রিজাইডিং অফিসার এবং ১ হাজার ২শ’ ৯৪ জন পোলিং অফিসার দায়িত্ব পালন করবেন।

পৌর এলাকাসহ উপজেলার ১৫ টি ইউনিয়নে ১০৯ টি কেন্দ্রের মধ্যে অধিক ঝুঁকিপূর্ণ হিসেবে ৮৩ টি ও ২৬ টি কেন্দ্র সাধারণ ঝঁকিপূর্ণ হিসেবে স্থানীয় প্রশাসনের পক্ষ থেকে চিহ্নিত করা হয়েছে। উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তা এসএম গোলাম কিবরিয়া জানান, কেন্দ্রগুলোর নিরাপত্তা নিশ্চিত করতে ১ হাজার ৭’শ ৬০ জন পুলিশ ও ৮’শ ৭২ জন আনছার সদস্য নিয়োগ দেয়া হয়েছে। এছাড়াও ২৫ জন ম্যাজিস্ট্রেট ও ৮ প্লাটুন বিজিবি সার্বক্ষনিক নিয়োজিত থাকবে।

এই উপ-নির্বাচনে আওয়ামীলীগ ও জাতীয় পার্টি (জাপা) সহ চারজন প্রার্থী প্রতিদ্বন্দ্বীতা করছেন। তারা হলেন, আওয়ামীলীগের আফরুজা বারী (নৌকা), জাপার ব্যারিস্টার শামীম হায়দার পাটোয়ারি (লাঙ্গল), গণফ্রন্টের শরিফুল ইসলাম (মাছ) ও এনপিপির জিয়া জামান খাঁন (আম)। এদের মধ্যে আওয়ামীলীগের প্রার্থীর সঙ্গে জাপা প্রার্থীর হাড্ডাহাড্ডি লড়াই হবে বলে মন্তব্য করছেন ভোটাররা।

প্রসঙ্গত: ২০১৬ সালের ৩১ ডিসেম্বর সরকারদলীয় সংসদ সদস্য ও উপজেলা আওয়ামী লীগের সভাপতি মনজুরুল ইসলাম লিটন দুর্বৃত্তের গুলিতে নিহত হলে গাইবান্ধা-১ (সুন্দরগঞ্জ) আসনটি শূন্য হয়। পরে ২০১৭ সালের ২২ মার্চ উপ-নির্বাচনে আওয়ামী লীগের মনোনয়ন নিয়ে জয়লাভ করেন উপজেলা আওয়ামী লীগের সাধারণ সম্পাদক গোলাম মোস্তফা আহমেদ। তিনিও সড়ক দুর্ঘটনায় গুরুতর আহত হয়ে এক মাস ঢাকায় চিকিৎসাধীন থাকার পর গত বছরের ১৯ ডিসেম্বর মারা যান। ফলে আসনটি আবারও শূন্য হলে আগামী ১৩ মার্চ এ আসনে উপ-নির্বাচনের দিনক্ষন নির্ধারণ করে নির্বাচন কমিশন।

আরও দেখুন

pic-20.10.18

বেনাপোলে গুলিবিদ্ধ মাদক ব্যবসায়ীর লাশ উদ্ধার

বেনাপোল প্রতিনিধি: আজ ভোরে বেনাপোলের ছোট আচড়া মাঠ থেকে আবু বাক্কা (৩৫) নামে এক মাদক ...

Leave a Reply

Your email address will not be published. Required fields are marked *

Facebook