সর্বশেষ সংবাদ
হোম / সম্পাদকীয় / গার্মেন্ট শ্রমিকদের বেতন-বোনাস পরিশোধে উদ্যোগ নিন
download

গার্মেন্ট শ্রমিকদের বেতন-বোনাস পরিশোধে উদ্যোগ নিন

মাথার ঘাম পায়ে ফেলে যে সব শ্রমিকরা দিন-রাত পরিশ্রম করে অর্থনীতির চাকাকে সচল রাখছে তারা শিকার হচ্ছে নানা রকমের বৈষম্যর। অক্লান্ত পরিশ্রম করেও তারা সঠিক সময়ে পায়না তাদের ন্যায্য পারিশ্রমিক। আমরা প্রতি বছরই দেখি ঈদের আগে শ্রমিকদের বেতন বোনাস নিয়ে আন্দোলন করতে। এবারও তাই দেখছি। মালিক পক্ষ শ্রমিকদের বেতন-বোনাস পরিশোধ করতে রাজি নয় ফলে দেশের গার্মেন্ট সেক্টরে দেখা দিচ্ছে অস্থিরতা। এবার রমজানের শুরুতেই এ অস্থিরতা পরিলক্ষিত হচ্ছে। সুতরাং এ কথা নিঃসন্দেহে বলা যায়, দেশের তৈরি পোশাক খাতে এখনো স্বস্তি ফিরে আসেনি। অনেক দিন থেকেই নানা ধরনের চ্যালেঞ্জের মুখে পড়েছে এ খাতটি। রাজনৈতিক অস্থিরতা ধীরে ধীরে স্বাভাবিক হয়ে এলেও নানা কারণে তৈরি পোশাক খাতের সংকট এখনো কাটেনি। এক প্রতিবেদনে প্রকাশ, বকেয়া বেতনের দাবিতে বিক্ষোভে নেমে পুলিশের সঙ্গে সংঘর্ষে জড়িয়েছে গাজীপুরের একটি পোশাক কারখানার শ্রমিকরা। শুক্রবার সকালে জয়দেবপুর চৌরাস্তায় এ ঘটনায় পুলিশসহ অর্ধশতাধিক আহত হয়েছে। সিটি করপোরেশনের রওশন সড়ক এলাকার তানভীর ফ্যাশন ওয়্যার নামের ওই কারখানার মালিকপক্ষ বেতন দিতে দেরি হবে জানালে বিক্ষুব্ধ শ্রমিকরা রাস্তা আটকে বিক্ষোভ শুরু করে। পুলিশ তাদের সরাতে গেলে একপর্যায়ে সংঘর্ষ বেঁধে যায়। বিক্ষোভ-সংঘর্ষের কারণে প্রায় এক ঘণ্টা ওই সড়কে যান চলাচল বিঘিœত হয়। এ ছাড়া শুক্রবার জাতীয় প্রেসক্লাবের সামনে সমমনা গার্মেন্ট শ্রমিক সংগঠনগুলো শ্রমিকদের ঈদ বোনাসসহ চলতি জুন মাসেরও পূর্ণ বেতন-ভাতার দাবি জানান। বক্তারা বলেন, ২০ রমজানের মধ্যেই শ্রমিকদের সব বেতন-ভাতা পরিশোধ করতে হবে। শ্রমিকদের ন্যায্য পাওনা নিয়ে কোনো ধরনের গড়িমসি সহ্য করা হবে না। বর্তমানে দেশ ও সমাজ এগিয়ে যাচ্ছে। অথচ শ্রমিকদের কোনো উন্নতি নেই। তাদের বক্তব্যের সঙ্গে আমরাও সহমত প্রকাশ করছি।

মনে রাখতে হবে, আন্তর্জাতিক বাজারে এই শিল্পের রয়েছে ব্যাপক চাহিদা। এক সময় যেসব রপ্তানি আদেশ বাংলাদেশ থেকে অন্যত্র সরিয়ে নেয়া হয়েছিল তা আবার ফিরিয়ে আনা হয়েছে সরকারের পক্ষ থেকে। এর আগে রাজনৈতিক অস্থিরতার কারণে প্রায় ৪০ শতাংশ রপ্তানি আদেশ ফিরিয়ে নিয়েছিল বিদেশি ক্রেতারা। দেশের তৈরি পোশাক খাত ধীরে ধীরে স্বাভাবিক হয়ে এসেছে। এখন যদি পবিত্র রমজানে বকেয়া বেতন, বোনাসের দাবিতে এই শিল্প অস্থির হয়ে ওঠে তা হলে বিষয়টি নিতান্তই দুঃখ ও হতাশাজনক। এর আগে কারখানার কর্মপরিবেশের উন্নয়ন প্রযুক্তি নির্ভরতা বৃদ্ধি, স্থানান্তর এবং ওয়েজবোর্ড অনুযায়ী মজুরি দিতে না পারায় গার্মেন্ট মালিকরা শ্রমিক ছাঁটাই করেছে। আবার কোনো কোনো মালিক প্রতিযোগিতায় টিকতে না পেরে কারখানা বন্ধ করে দিয়েছে। অথচ আইন অনুযায়ী শ্রমিকরা ক্ষতিপূরণ পায়নি। এখন আবার বকেয়া বেতন, বোনাসের জন্য তাদের আন্দোলন বিক্ষোভ করতে হচ্ছে। ন্যায্য পাওনা আদায়ে শ্রমিকদের নামতে হচ্ছে রাজপথে। ধীরে ধীরে পুঞ্জীভূত হচ্ছে শ্রমিকদের ক্ষোভ অসন্তোষ। এটা কোনোভাবেই গ্রহণযোগ্য নয়। দেশের অর্থনীতির চাকাকে যেসব খাত সচল রেখেছে তার মধ্যে তৈরি পোশাক খাত অন্যতম। যার কারণে একটি মহল দীর্ঘদিন থেকে এই খাত ধ্বংসের পেছনে সক্রিয় রয়েছে। ফলে দেখা যায় একেবারে ঠুনকো কারণে শ্রমিক অসন্তোষ লেগেই থাকে। অনেক সময় খোদ মালিকরাই শ্রমিক স্বার্থবিরোধী কাজে নেমে পড়েন। তৈরি পোশাক খাতের জন্য এমন পরিস্থিতি কোনোভাবেই ইতিবাচক নয়। আমরা চাই শ্রমিকদের ন্যায়সঙ্গত দাবি, তাদের বেতন, বোনাস ঈদের আগে পরিশোধ করা হোক। পোষাক খাতে কোন ধরনের বিশৃঙ্খল অবস্থা তৈরি হোক সেটা কোনভাবেই কাম্য নয়। আমরা মনে করি সমস্যা নিরসনে উদ্যোগ গ্রহন জরুরি।

আরও দেখুন

download

রিজার্ভ চুরির প্রতিবেদন প্রকাশ প্রয়োজনীয় পদক্ষেপ গ্রহন করুন

রিজার্ভ চুরির ঘটনা দেশে বিদেশে সবচেয়ে আলোচিত একটি ঘটনা। এ চুরির সাথে কেন্দ্রীয় ব্যাংকের ছয়জন ...

Leave a Reply

Your email address will not be published. Required fields are marked *

Facebook