ঘরে অভাব, হের লইগ্যা পেটের টানে মানুষের ব্যাগ টানি – মানবাধিকার সংবাদ
হোম / দেশজুড়ে / ঘরে অভাব, হের লইগ্যা পেটের টানে মানুষের ব্যাগ টানি
13413019_1113587932046979_4248994781944534449_n

ঘরে অভাব, হের লইগ্যা পেটের টানে মানুষের ব্যাগ টানি

DSC01486_2 মেহেদী হাসান তানজীল, ভোলা থেকে :


বাপে সংসার চালাইতে পারে না, ঘরে অভাব। হের লইগ্যা পেটের টানে মানুষের ব্যাগ টানি। ৫/১০ টাকা যা পাই তাই নিয়াই খুশি থাকি। হারা দিনের কামাই দিয়াই বাড়িতে চাউল কিইন্যা নেই। অত্যান্ত করুন স্বরে ভোলার ভেদুরিয়া লঞ্চ ঘাটের কুলি শিশু মো: রানা (৯) এ কথাগুলোই বলছিল।
সে জানায়, তার বাড়ি উত্তর ভেদুরিয়া গ্রামে। পিতা ইসমাইল বেপারী চট্রগ্রাম থাকে। সেখানে কাজ করলেও বাড়িতে নিয়মিত টাকা পাঠায় না। ঘরে ৩ ভাই এক বোন। তাই অভাবের তাড়নায় মা জুলেখা বেগম ঝিয়ের কাজ করে। আর আমি ঘাটে কুলি ঘিরি করি। দৈনিক ভাগ্যে ৩০/৭০ টাকা পর্যন্ত জোটে।
মো: ফারুক (১৩)। উত্তর ভেদুরিয়া মাধ্যমিক বিদ্যালয়ের অষ্টম শ্রেণীর ছাত্র সে। অভাবের তাড়নায় সেও এসেছে এ পেশায়।
কুলি শিশু ফারুক জানায়, প্রতিদিন স্কুল ছুটির পর ভেদুরিয়া ঘাটে কুলির কাজ করে ২০/৩০ টাকা সংসারে যোগান দেয়। তার পিতা ইসমাইল ফরাজী। নদীতে ট্রলার চালায়। কিন্তু এ সামন্য টাকা দিয়ে ৬ জনের দু’বেলা ভাত জোটেনা।
শুধু রানা কিংবা ফারুক নয়। ভোলার ভেদুরিয়া লঞ্চ ঘাটে কুলির কাজ করছে এমন শিশুর সংখ্যা প্রায় ৩০। যারা অভাবের তাড়নায় শিক্ষার সুযোগ পাচ্ছেনা। যে বয়সে এদের বই খাতা নিয়ে স্কুলে যাবার কথা সে বয়সে এরা কুলির কাজ করছে। ওদের জীবন কাটছে লঞ্চের ভেপুর শদ্ধে।
বৃহ¯প্রতিবার বিকালে ভোলার ভেদুরিয়া লঞ্চ ঘাটে গিয়ে দেখা গেছে, ভোলা-বরিশাল রুটের বরিশাল থেকে ভোলাগামি লঞ্চ থেকে যাত্রী নামার সাথে সাথে ওদের তড়িঘড়ি। যাত্রীদের ব্যাগ টেনে নিয়ে গন্তব্যে পৌছে দেওয়াই এদের কাজ। আবার ভোলা থেকে বরিশাল গামী যাত্রীরা বাস-অটো টেম্পু লঞ্চ ঘাটে নামার সাথে সাথে আবার শুরু হয় ব্যাগ টানার কাছ। দৌড়ে কে আগে ছুটে ব্যাগ নিতে পারবে এমন প্রতিযোগীতাই চলে নিজেদের মধ্যে।
এ বিষয়ে কথা হয় কয়েকজন কুলি শিশুর সাথে। কুলি শিশু আকাশ (৮), শামিম (১২) ও সোহাগ (১৩) জানায়, প্রতিদিন ভোর ৬ টা থেকে সন্ধ্যা ৬ টা পর্যান্ত ঘাটে কুলির কাজ করি। কুলির কাজ করে গড়ে ২০ টাকা থেকে ৭০ টাকা পর্যন্ত আয় হয়।
তারা জানান, ব্যাগ টানতে গিয়ে কখনওবা মানুষের থাপ্পর চোপার খেতে হয়। কেউ আবার টাকা কম দেয়। কিন্তু তবুও তো আমাগো পেট বাচাতে হইবো। তাই কষ্ট করে কাজ করছি। কারণ একদিন কাজে না গেলে পেটে ভাত জুটবো না।
ভেদুরিয়া লঞ্চ ঘাটের মুদি দোকানদার মোতালেব মিয়া (৬০) জানান, লঞ্চ ঘাটের এসব কুলি শিশু সবাই দরিদ্র পরিবারের সন্তান। পড়া লেখা করার ইচ্ছে থাকা সত্বেও দারিদ্রতার কারনে পড়ালেখার সুযোগ পাচ্ছে না। এরা ভুগছে নানান রোগে।
এ ব্যপারে এনজিও সংস্থা বিডা’র নির্বাহী পরিচালক আকতার হোসেন লিটন জানান, দরিদ্রতার কারনে শিশুরা শিক্ষার সুযোগ পাচ্ছেনা। এদের স্কুল মুখী করতে আমারাও চেষ্টা চালিয়ে যাচ্ছি।
ভোলা সদর উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তা জানান, শিশু শ্রম নিষিদ্ধ। তবে অনেক শিশুই অভাবে পড়ে শ্রম বিক্রি করছে। এদের জন্য ভেদুরিয়া এলাকায় একটি স্কুল স্থাপনের পরিকল্পনা আমাদের রয়েছে।
ভোলার সিভিল সার্জন জানান, অতিরিক্ত পরিশ্রম করার ফলে শিশুরা বিভিন্ন রোগে আক্রান্ত হয়ে দুর্বল হয়ে পড়ছে। হারাচ্ছে জীবনী শক্তি। পরিশ্রমের কারনে প্রতিনিয়ত এরা পুষ্টিহীনতায় ভুগছে।

আরও দেখুন

road-2

ফরিদপুরে দুই বাসের সংঘর্ষে নিহত ২, আহত ১৫

ফরিদপুর প্রতিনিধি: ফরিদপুরের নগরকান্দায় ঢাকা-খুলনা মহাসড়কে যাত্রীবাহী দুটি বাসের মুখোমুখি সংঘর্ষে দুই ব্যক্তি নিহত হয়েছেন। ...

Leave a Reply

%d bloggers like this: