সর্বশেষ সংবাদ
ছেলেদের সঙ্গে ঘোরে বলেই ধর্ষণের শিকার মেয়েরা: মুখ্যমন্ত্রী মহিলা পুলিশকর্মীকে ধর্ষণের অভিযোগ সাব-ইন্সপেক্টরের বিরুদ্ধে! নয়াপল্টনে সংঘর্ষের তিন মামলায় আগাম জামিন পেলেন আব্বাস দম্পতি গায়িকা জেনিফার লোপেজের কাণ্ড! বাবার আদর্শ থেকে দূরে আওয়ামী লীগ, তাই ঐক্যফ্রন্টে যুক্ত হয়েছি: ড. রেজা কিবরিয়া শাহজালাল বিমানবন্দরে ৯৮৫ কেজি ‘খাটপাতা’ মাদক জব্দ সৌদিতে পর্দার বিরুদ্ধে নারীদের বিক্ষোভ সংসদ নির্বাচনে বাগেরহাটে স্বামী-স্ত্রী দেবর-ভাবী মা-মেয়েসহ ৯৩ প্রার্থীর মনোনয়নপত্র সংগ্রহ আগামী নির্বাচন অবরুদ্ধ গণতন্ত্র পুনরুদ্ধার ও খালেদাকে মুক্ত করার নির্বাচন: কাদের সিদ্দিকী টুঙ্গিপাড়ায় বাবার লাশ বাড়িতে রেখে পিইসি পরীক্ষায় অংশ নিল তৈশী
হোম / জাতীয় / মুক্তিযোদ্ধা কোটা থাকবে, ভিসির বাসভবনে হামলাকারীরা ছাড়া পাবে না: প্রধানমন্ত্রী
pm-pr

মুক্তিযোদ্ধা কোটা থাকবে, ভিসির বাসভবনে হামলাকারীরা ছাড়া পাবে না: প্রধানমন্ত্রী

সিনিয়র রিপোর্টার:

প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনা বলেছেন, সরকারি চাকরিতে কোটা বাতিল করতে চেয়েছিলাম, কিন্তু ৩০ শতাংশ মুক্তিযোদ্ধা কোটা রাখতে উচ্চ আদালতের আদেশ রয়েছে। যারা আন্দোলনের নামে ভিসির বাসভবনে ভাঙচুর করেছে তাদের খুঁজে বের করা হচ্ছে, তাদের কোনোরকম ছাড় দেওয়া হবে না।

আজ জাতীয় সংসদে বাজেট অধিবেশনের সমাপনী বক্তব্য দেন প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনা। এসময় তিনি এসব কথা বলেন। গত ৫ই জুন শুরু হয়েছিলো বাজেট অধিবেশন। সমাপনী দিনে প্রথমে সমাপনী বক্তব্য রাখেন বিরোধী দলের নেতা রওশন এরশাদ। এরপর সংসদ নেতা শেখ হাসিনা সমাপনী বক্তব্যে বিরোধীদলীয় নেতার তোলা বিভিন্ন প্রশ্নের উত্তর দেন।

আজ সংসদে বাজেট অধিবেশনের সমাপনী বক্তব্যে শেখ হাসিনা বলেছেন, “মুক্তিযোদ্ধাদের যে কোটা, তাতে হাইকোর্টের রায় রয়ে গেছে। যেখানে হাইকোর্টের রায় আছে যে, মুক্তিযোদ্ধাদের কোটা সংরক্ষিত থাকবে। তাহলে আমরা কীভাবে কোর্টের ওই রায় ভায়োলেট করব? সেটা তো আমরা করতে পারছি না।”

তিনি বলেন, ‘কোটা নিয়ে আন্দোলন। এটা কী আন্দোলন নাকি। ঠিক তারা যে কী চায়, বারবার জিজ্ঞাসা করা হয়েছে, সেটা কিন্তু সঠিকভাবে বলতে পারে না। আজকে আন্দোলন তারা করছে খুব ভালো কথা। বিরোধীদলীয় নেতা বলেছেন, ছেলেপুলে আন্দোলন করতেই পারে। কিন্তু ভিসির বাড়িতে আক্রমণ করে সেখানে আগুন জ্বালিয়ে দেওয়া, গাড়ি আগুন দিয়ে পোড়ানো, বাড়ি ভাঙচুর করা, বেডরুম পর্যন্ত পৌঁছে ভাঙচুর এবং লুটপাট করা, স্টিলের আলমারি ভেঙে গহনা, টাকাপয়সা সবকিছু লুটপাট করেছে। ভিসির পরিবার আতঙ্কগ্রস্ত হয়ে লুকিয়ে থেকে প্রাণ বাঁচিয়েছেন। এটা কি কোনও শিক্ষার্থীর কাজ? এটা কি কোনও শিক্ষার্থী করতে পারে?

প্রধানমন্ত্রী বলেন, শিক্ষার্থীরা কথায় কথায় বলে ক্লাস করবে না। ক্লাসে তালা দেয়। ক্ষতিগ্রস্ত কার হবে? আমরা সেশনজট দূর করেছি। এদের কারণে এখন আবারও সেই সেশনজট হবে? ১৫ টাকা সিট ভাড়া আর ৩৮ টাকায় খাবার, কোথায় আছে পৃথিবীর। আজ নতুন নতুন হল বানিয়েছি। ১৫ টাকা সিট ভাড়া আর ৩৮ টাকায় খাবার খেয়ে তারা লাফালাফি করে। তাহলে সিট ভাড়া আর খাবারের বাজার দর যা রয়েছে, তাদের তা দিতে হবে। সেটা তারা দিক।’

প্রধানমন্ত্রী আরও বলেন, তারা হলের গেট ভেঙে ফেলে দেবে। গভীর রাতে হল থেকে ছাত্রীরা বেরিয়ে যাবে। আমার টেনশনে আমি বাঁচি না। আমি পুলিশকে, ছাত্রলীগ ও আওয়ামী লীগ নেতাকর্মীদের বলেছি এই মেয়েদের যেন কোনও ক্ষতি না হয়। ভোর ছয়টা পর্যন্ত জেগে থেকে যার যার হলে পৌঁছে যাওয়ার পর আমি ঘুমাতে গিয়েছি।’

তিনি বলেন, ‘বলেছি, কোটা সংস্কার আমরা করবো। আমি তো বলেছি টোটাল কোটা বাদ দিতে। আমরা তো কেবিনেট সেক্রেটারিকে দিয়ে একটি কমিটিও করে দিয়েছি। তারা সেটা দেখছে। তাহলে এদের অসুবিধাটা কোথায়?

প্রধানমন্ত্রী আশা প্রকাশ করে বলেন, ‘২০২১ সালে আমাদের স্বাধীনতার সুবর্ণ জয়ন্তী উদযাপন করব। এর মধ্যেই দারিদ্র্যমুক্ত বাংলাদেশ গড়ে উঠবে। সকল ঘরে বিদ্যুত পৌঁছাবে। ২০৪১ সালের মধ্যে বাংলাদেশ হবে দক্ষিণ এশিয়ায় উন্নত সমৃদ্ধ দেশ।

জনগণের কাছে সহযোগিতা আহ্বান করে প্রধানমন্ত্রী বলেন, ‘নৌকা মার্কায় তারা ভোট দিয়েছিলেন বলেই ২০০৮ সালে আমরা সরকার গঠন করে তাদের সেবা করার সুযোগ পেয়েছি। ২০১৪ সালে আবারোও শত বাধার মুখে জ্বালাও-পোড়াও সবকিছু উপেক্ষা করে তারা ভোট দিয়েছেন। আমরা জয়ী হয়ে সরকার গঠন করে তাদের সেবা করার সুযোগ পেয়েছি। আগামী নির্বাচনেও তারা যদি মনে করে, তাদের সেবা করার সুযোগ দিয়ে তারা ভুল করেননি, তারা দেশকে এগিয়ে নিয়ে যেতে সহযোগিতা করেছেন এবং জনগণ যদি চায় আবারোও নৌকা মার্কায় ভোট দিয়ে সেবা করার সুযোগ দেবে।’

শত শত মানুষকে পুড়িয়ে হত্যা করার বিষয়টি তুলে ধরে বিএনপি-জামায়াত জোটের আগুন সন্ত্রাস ও নৈরাজ্যকর আন্দোলনের দিকে ইঙ্গিত করে শেখ হাসিনা বলেন, ‘আমাদের দেশটা শান্তিপূর্ণ থাক, দেশের উন্নতি হোক, দেশের কল্যাণ হোক, দেশের মানুষ ভাল থাকুক, সেইটুকুই চাই।’

‘জাতির পিতার স্বপ্ন ছিল ক্ষুধামুক্ত দারিদ্রমুক্ত বাংলাদেশ গড়া’ উল্লেখ করে প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনা বলেন, ‘ইনশাল্লাহ বাংলাদেশকে ক্ষুধামুক্ত করতে পেরেছি এখন দারিদ্রমুক্ত করাটাই আমাদের লক্ষ্য। আজকে আর কুঁড়েঘর নেই। আজকে টিনের ঘর। যেটুকু মানুষ গৃহহারা আছে (২ লাখ ৮০ হাজার) তাদের জন্য এরইমধ্যে প্রকল্প নিয়েছি। নদীভাঙনে যারা সবকিছু হারিয়েছে তাদের জন্য জায়গা এবং ঘরবাড়ির ব্যবস্থা করে দেওয়ার লক্ষ্যে এরইমধ্যে আমরা পদক্ষেপ নিয়েছি।’

‘কাজেই কোনো মানুষেই অবহেলিত থাকবে না। সকল শ্রেণিপেশার মানুষ তাদের কল্যাণের জন্যই কিন্তু আমাদের সরকার কাজ করে যাচ্ছে এবং আমরা সেই কাজগুলো অব্যাহত রাখব সেটাই আমরা চাই’ বলেন প্রধানমন্ত্রী।

রওশন এরশাদের বক্তব্যের প্রতিক্রিয়ায় প্রধানমন্ত্রী বলেন, রাজধানীর খাল ভরাট করে বক্স কালভার্ট নির্মাণ এবং পুকুর ভরাট করে জলাবদ্ধতা সৃষ্টি করেছে সেনাশাসক জেনারেল এরশাদ। আর বড় বড় গাছ কেটে পরিবেশ নষ্ট করেছে আরেক সেনাশাসক জিয়াউর রহমান।

আরও দেখুন

Asaduzzaman

এবার থার্টিফার্স্ট নাইটে কোনো অনুষ্ঠান নয় : স্বরাষ্ট্রমন্ত্রী

স্টাফ রিপোর্টার: আসন্ন জাতীয় সংসদ নির্বাচনের কারণে এবার থার্টিফার্স্ট নাইটে কোনো অনুষ্ঠান করা যাবে না ...

Leave a Reply

Your email address will not be published. Required fields are marked *

WP Facebook Auto Publish Powered By : XYZScripts.com