সর্বশেষ সংবাদ
হবু বরের সঙ্গে বেড়াতে গিয়ে বিশ্ববিদ্যালয় ছাত্রী নিহত ময়মনসিংহ সিটি কর্পোরেশনের প্রথম নির্বাচনের তফসিল ঘোষণা সখীপুরে প্রশাসনের সঙ্গে মতবিনিময় সভা সুষ্ঠু ভোটের নিশ্চয়তা পেলে কেন্দ্রে যাবেন ভোটাররা কুমিল্লা চৌদ্দগ্রামে বিকেলে প্রেমিকার আত্মহত্যা, খবর শুনে রাতে প্রেমিকের আত্মহত্যা ভারতে রোগীকে ঘুমের ইঞ্জেকশন দিয়ে হাসপাতাল কর্মীদের সংঘবদ্ধ ধর্ষণ মক্কার জন্য ২৬০০ মেগাওয়াট সৌরবিদ্যুৎ উৎপাদনের পরিকল্পনা মহান স্বাধীনতা দিবস উপলক্ষে কাল এড়িয়ে চলবেন যেসব সড়ক আগামীকাল মহান স্বাধীনতা ও জাতীয় দিবস আজ রাত ৯টায় সারাদেশে পালিত হবে ব্ল্যাকআউট কর্মসূচি প্রিয় বান্ধবী শাহনাজের মৃত্যু সংবাদ শুনে তৃতীয়বার কাঁদলেন খালেদা জিয়া
হোম / সম্পাদকীয় / মা-বাবার ঠাঁই কেন বৃদ্ধাশ্রমে
01

মা-বাবার ঠাঁই কেন বৃদ্ধাশ্রমে

মীর আব্দুল আলীম
সেদিন রাজধানী ঢাকার এক বৃদ্ধাশ্রমে গিয়ে চোখের জল আর ধরে রাখতে পারিনি। বিশেষ করে দেশের খ্যাতনামা এক বিশ্ববিদ্যালয়ের অধ্যাপকের বৃদ্ধ মায়ের মনোবেদনা আমাকে অনেক বেশি ব্যথিত করেছে। দেশে এমন হাজারো অধ্যাপক, ডক্টর, ডাক্তার, আমলা, ব্যবসায়ী মার্কা সন্তান আছেন যাদের যাতনা বৃদ্ধ মা-বাবাকে বইতে হয়। বৃদ্ধাশ্রম থেকে ঘুরে এসে তাদের নিয়ে কিছু লিখব বলে মনস্থির করলাম। বৃদ্ধ পিতা-মাতা আর বৃদ্ধাশ্রম নিয়ে লিখব আর নচিকেতার সেই গান গুনগুন করে গাইব না তা কী করে হয়। ‘ছেলে আমার মস্ত মানুষ মস্ত অফিসার, মস্ত ফ্ল্যাটে যায় না দেখা এপার-ওপার, নানা রকম জিনিস আর আসবাব দামি দামি, সবচেয়ে কম দামি ছিলাম এক মাত্র আমি, ছেলে আমার, আমার প্রতি অগাধ সম্ভ্রম, আমার ঠিকানা তাই বৃদ্ধাশ্রম।’ ‘আপনের চেয়ে পর ভাল, পরের চেয়ে বৃদ্ধাশ্রম।’ কঠিন এক সত্য। আর এ সত্যকে মেনেই অনেক বৃদ্ধ মা-বাবা আশ্রয় নেন বৃদ্ধাশ্রমে। সন্তানের কাছে যাদের বেশি কিছু চাওয়ার নেই; শেষ বয়সে আদরের সন্তানের পাশে থেকে সুখ-দুঃখ ভাগ করবার ইচ্ছা এতটুকুই যা চাওয়ার। আর এ নিয়েই প্রত্যেক পিতা-মাতা প্রহর গুনতে থাকেন দিবা-রজনী। কিন্তু অনেকেরই সেই সন্তানের কাছে আশ্রয় না হয়ে আশ্রয় হয় আপনজনহীন বৃদ্ধাশ্রমে। শেষ বয়সে মস্ত ফ্ল্যাটের ঘরের কোণেও জনমদুখী মা-বাবার এতটুকুও জায়গা মেলে না। ওদের ছুড়ে দেয়া হয় প্রবীণ নিবাসনামীয় নরকে। তবুও প্রতিবাদ দানা বাঁধে না; মন অভিশাপ দেয় না। নাড়িছেঁড়া ধন ওরা। তাই চুপ থাকেন… একেবারে চুপ। তবে এ নিষ্ঠুরতা তাদের কেবলই কাঁদায়… এ কেমন নিয়তি? ভাবী আমরা কতটাই না আধুনিক স্বার্থপর!01
আজ যারা বৃদ্ধ তারা নিজেদের জীবনের সব সময়, ধনসম্পদ বিনিয়োগ করেছিলেন সন্তানের জন্য, নিজের জন্য রাখেননি কিছুই। কিন্তু বৃদ্ধ বয়সে সন্তানের কাছ থেকে এর একটি ক্ষুদ্র অংশও তারা পাচ্ছেন না। কখনো দেখা যায় সন্তান তার নিজের পরিবারের খরচ জোগাতে হিমশিম খাচ্ছে, তাই পিতা-মাতাকে মনে করছে বোঝা। নিজে স্ত্রী-সন্তান নিয়ে একটু ভালো থাকার জন্য বাবা-মার ঠাঁই করে দিয়েছেন বৃদ্ধাশ্রমে। আবার এমনও দেখা যায় যে সন্তানের টাকা-পয়সার অভাব নেই, কিন্তু পিতা-মাতাকে নিজের কাছে রাখার প্রয়োজন বোধ করছেন না, বা বোঝা মনে করছেন। হয় নিজেই পাঠিয়ে দিচ্ছেন বৃদ্ধাশ্রমে, নয় তো অবহেলা-দুর্ব্যবহার করে এমন অবস্থার সৃষ্টি করছেন যেন তাদের পিতা-মাতা নিজেরাই সরে যান তার সাধের পরিবার থেকে। কেউ কেউ আবার এমনও বলেন, তার টাকার অভাব না থাকলেও সময়ের অভাব আছে, পিতা-মাতাকে দেখভাল করা বা তাদের সঙ্গে কথা বলার মতো পর্যাপ্ত সময় তার নেই। তাই বাবা বা মা একা একা নির্জন থাকার চেয়ে বৃদ্ধনিবাসে অন্যদের সঙ্গে একত্রে সময় কাটানোই তাদের জন্য ভালো। একবার বৃদ্ধনিবাসে পাঠাতে পারলেই যেন সব দায়মুক্তি। এভাবে নানা অজুহাতে পিতা-মাতাকে দূরে সরিয়ে দেয়া হচ্ছে। অনেক নামিদামি বুদ্ধিজীবী, শিল্পী, সাহিত্যিক, সাংবাদিক, শিক্ষক, চাকরিজীবী যারা একসময় খুব বর্ণাঢ্য জীবনের অধিকারী ছিলেন, বৃদ্ধ বয়সে এসে নিজের সন্তানের দ্বারাই অবহেলা ও বঞ্চনার শিকার হয়ে বৃদ্ধাশ্রমের স্থায়ী বাসিন্দা হতে বাধ্য হচ্ছেন। অনেক সন্তান বা আত্মীয়স্বজন আর তাদের কোনো খবরও নেন না। তাদের দেখতে আসেন না, এমনকি প্রয়োজনীয় টাকা-পয়সা বা জিনিসপত্রও পাঠান না। বাড়িতে কোনো অনুষ্ঠানে বা ঈদের আনন্দের সময়ও পিতা-মাতাকে বাড়িতে নেন না। এমনও শোনা যায়, অনেকে পিতা বা মাতার মৃত্যুশয্যায় বা মারা যাওয়ার পরও শেষবার দেখতে যান না। বৃদ্ধনিবাসের কর্তৃপক্ষই কবর দেয়া বা যে কোনো শেষকৃত্য করার সব ব্যবস্থা করে, অথচ তার প্রিয় সন্তানরাই কোনো খবর রাখেন না। হয়তো এটাই নিয়তি।
সদ্য বৃদ্ধাশ্রমে পাঠানো এক মায়ের তার ছেলেকে লেখা চিঠি ওই বৃদ্ধাশ্রম থেকে সংগ্রহ করেছি আমি। চিঠিটি হুবহু এমন : ‘খোকা তুই কেমন আছিসরে? বউমা আর আমাদের ছোটো দাদুভাই সবাই ভালো আছে তো? জানি তোদের তিনজনের ছোট সংসারে প্রত্যেকেরই খুব কাজ। তবুও তোদের কাছে আমার একান্ত অনুরোধ। একদিন একটু সময় করে এই বুড়ি মাকে দেখতে আয় না! কিরে, আসবি না? ওঃ বুঝতে পেরেছি! এখনো আমার উপর থেকে অভিমান যায়নি বুঝি! আমাকে যেদিন বৃদ্ধাশ্রমে পাঠানোর ব্যবস্থা করেছিলি, সেদিন ঝগড়া করেছিলাম বৃদ্ধাশ্রম থেকে আমাকে নিতে আসা লোকজনদের সঙ্গে। জানি শেষ দিনটাতে একটু বেশি রকমেরই বাড়াবাড়ি করে ফেলেছিলাম, তা ছাড়া আর কিইবা আমি করব বল, সময়মতো ওরা এসে আমার জিনিসপত্র সব জোর করে গাড়িতে উঠিয়ে নিল, তারপর বার বার তাগাদা দিতে লাগল। বাবা কারণ আমি তোর সঙ্গে দেখা করে আসার জন্য তাদের কাছে সময় চেয়েছিলাম, তারা সময় দিলেও শেষ পর্যন্ত তুই আসিসনি। তুই কাজে এত ব্যস্ত থাকিস তখন আমার মনে ছিল না। পরে মনে পড়েছিল, তাই তোর সঙ্গে দেখা না করেই চলে এসেছি। তুই রাগ করিসনি তো? আর সেদিন আমার সেই জেদ দেখে বউমা তো রেগেই আগুন। তা ছাড়া তার তো রাগবারই কথা! আমাকে নিয়ে যেতে যারা এসেছিল, অল্প কিছুক্ষণের মধ্যেই তারা যা তড়িঘড়ি শুরু করে দিল তা দেখবার জন্য পাশের বাড়ি থেকে কেউ কেউ উঁকি দিতে লাগল। এতে বউমার একটু লজ্জাবোধ হবেই। সেদিন তোদের যে অপমান করে এসেছি তোরা সেসব ভুলে যাস কেমন করে! আমার কথা ভাবিস না। আমি খুব ভালো আছি! আর কেনই বা ভালো থাকব না বল? তোরা তো আমার ভালো থাকবারই বন্দোবস্ত করে দিয়েছিস। তবে একটা কথা, আমার কথা যদি তোর কখনো-কোনো দিন মনে পড়ে; তখন যেন নিজেকে তুই শেষ করে দিস না। তুই এখনো একশ বছর বেঁচে থাক।’
পাঠক আপনারাই বলুন এই ছেলেকে কী বলে ডাকি কুকুর, বিড়াল, শূকর? না, এ নামে তোকে ডাকলে পশু জাতির যে আর মান-ইজ্জত রইবে না। ডাকাডাকি না হয় বাদ দিই। বরং তোর মায়ের মতোই তোর জন্য দোয়া করি ‘তুই বেঁচে থাক বছরের পর বছর, অনন্তকাল’। খোদার কাছে প্রার্থনা এই বলে যে, তিনি যেন তোর অমানুষী মনে উপলব্ধি সৃষ্টি না করে তোর কাছে আজরাইল না পাঠান। চিঠি পড়ে তোর মায়ের কষ্ট আমি পুরোটা উপলব্ধি করতে পারছি না। একজন বাবা হয়ে এত বেশি কষ্ট উপলব্ধি করি কী করে? তোর জন্য ফরিয়াদ করি, খোদা যেন তোকে তোর মায়ের মতো সমকষ্ট দিয়ে পৃথিবী ত্যাগ করান। এর বেশি কষ্ট তোর জন্য বোধ করি প্রয়োজন পড়বেও না। তোর মা কষ্ট যেমনটা পেয়েছেন ঠিক তেমন কষ্টই তোকে দিক খোদা।
ইসলামে মাতা-পিতার যে সম্মান, মর্যাদা দেয়া হয়েছে তা অন্য কোনো ধর্মে নেই। অথচ সেই মুসলমানের দেশে এই জঘন্য রীতির (বৃদ্ধাশ্রম) প্রচলন হচ্ছে! এমনকি শতকরা ৯৫ ভাগ মুসলমানের দেশ বাংলাদেশেও এ রীতির ব্যাপক প্রচলন ঘটতে যাচ্ছে। তাই সংশ্লিষ্ট কর্তৃপক্ষের উচিত এদিকে দৃষ্টি দেয়া। কারণ এর দ্বারা বৃদ্ধ পিতা-মাতাকে অবমাননা, অকর্মণ্য ও অবহেলিতই প্রতিপন্ন করা হয়; যা স্পষ্টত কুফরি ও জাহান্নামে যাওয়ার পথ সুগম করে। মনে রাখা উচিত, আজ যারা যুবক আগামীতে তারাও বৃদ্ধ হবে। তখন কি তারা এই অবহেলিত জীবন মেনে নেবে? মূলত দীনি মানসিকতাসম্পন্ন কোনো মুসলমান এমন জঘন্য রীতি মানতে পারে না। স্মরণীয়, যেসব বৃদ্ধ বা বৃদ্ধার কেউ নেই এবং মাথা গোঁজারও কোনো স্থান নেই শুধু তাদের জন্যই বৃদ্ধ ও বৃদ্ধানিবাস হতে পারে। বাস্তবিক পক্ষে আমাদের দেশে বাবা-মায়েরা দীর্ঘ দিবস দীর্ঘ রজনী মাথার ঘাম পায়ে ফেলে রক্ত পানি করে সন্তান মানুষ করেন। সন্তান বড় হয়। তাদেরও স্ত্রী-সন্তান হয়। তার পরই শুরু হয় বৃদ্ধ বাপ-মায়ের ঝড়ের রাত। কেউ লাথি-গুঁতা খেয়ে চোখের পানিতে বুক ভাসিয়ে পরিবারের বোঝা হয়েই থাকেন। অনেককে দেখা যায় বৃদ্ধ বয়সে অন্যের বাড়িতে কাজ করতে। রেল স্টেশন, বাস টার্মিনাল, লঞ্চঘাটের খালি জায়গায় শুয়ে-বসে থাকা বৃদ্ধ-বৃদ্ধার সঙ্গে কথা বলে নিষ্ঠুর নির্মম যে কাহিনী বেরিয়ে আসে অনেক সময় তা ভাষায় প্রকাশ করা সম্ভব হয় না। খোঁজ নিয়ে যেসব বৃদ্ধাশ্রম, প্রবীণ হিতৈষী হোস্টেল, প্রবীণনিবাসের কার্যক্রমের মোটামুটি বিস্তারিত জানা গেছে তার অধিকাংশ বাসিন্দাই মানসিকভাবে অসহায় হলেও আর্থিকভাবে অসহায় নন। কেউ বা পরিবারের আচরণে অভিমান করে প্রবীণনিবাসে আশ্রয় নিয়েছেন। সকল প্রকার বিল পরিশোধ করার আর্থিক সামর্থ্য তার নিজেরই আছে। আবার কেউ কেউ থাকেন সন্তান-পুত্রবধূর প্রতিদিনের ঝগড়া-ঝাঁটি থেকে উপদ্রবমুক্ত হয়ে শেষ বয়সে একটু শান্তির জন্য। তারা এটা করেন পরিবার-পরিজনের সঙ্গে সমঝোতা করেই।
বৃদ্ধাশ্রম অবহেলিত বৃদ্ধদের জন্য শেষ আশ্রয়। তাদের সারা জীবনের অবদানের যথার্থ স্বীকৃতি, শেষ সময়ের সম্মান ও নিরাপত্তা দেয়া হয় এসব বৃদ্ধাশ্রমে। এখানে তারা নির্ভাবনায়, সম্মানের সঙ্গে, আনন্দের সঙ্গে বাকি দিনগুলো কাটাতে পারেন। প্রয়োজনে অনেক বৃদ্ধাশ্রমে চিকিৎসারও সুন্দর ব্যবস্থা করা আছে। কিন্তু সকল প্রাপ্তির মাঝেও এখানে যা পাওয়া যায় না তা হলো নিজের পরিবারের সান্নিধ্য। বৃদ্ধ বয়সে মানুষ তার সন্তান, নাতি-নাতনির সঙ্গে একত্রে থাকতে চান। তাদের সঙ্গে জীবনের আনন্দ ভাগাভাগি করে নিতে চান। সারা জীবনের কর্মব্যস্ত সময়ের পর অবসরে তাদের একমাত্র অবলম্বন এই আনন্দটুকুই। বলা যায় এর জন্যই মানুষ সমগ্র জীবন অপেক্ষা করে থাকে। বৃদ্ধাশ্রমে আশ্রয় পাওয়া যায়, সঙ্গীসাথী পাওয়া যায়, বিনোদন পাওয়া যায়, কিন্তু শেষ জীবনের এই পরম আরাধ্য আনন্দটুকু পাওয়া যায় না যার জন্য তারা এ সময়টাতে প্রবল মানসিক যন্ত্রণা আর ভারাক্রান্ত হৃদয়ে আবেগাপ্লুত হয়ে ওঠেন। নেহায়েত অনন্যোপায় হয়ে, ইচ্ছার বাইরে যারা বাবা-মাকে বৃদ্ধাশ্রমে পাঠান, তাদের কথা ভিন্ন। কিন্তু যারা নিজের পর্যাপ্ত সম্পদ ও সময়-সুযোগ থাকার পরও শুধু অবহেলা করে পিতা-মাতাকে বৃদ্ধাশ্রমে পাঠিয়ে দিয়ে ভুলে যান, তাদের স্মরণ রাখা দরকার, এমন সময় তাদের জীবনেও আসতে পারে। যে বাবা-মা একসময় নিজে না খেয়েও সন্তানকে মুখে তুলে খাইয়ে দিতেন, তারা আজ কোথায় কেমন আছেন সেই খবর নেয়ার সময় যার নেই তার নিজের সন্তানও হয়তো একদিন তার সঙ্গে এমনই আচরণ করবে। বিভিন্ন উৎসবে, যেমন ঈদের দিনেও যখন তারা তাদের সন্তানদের কাছে পান না, সন্তানের কাছ থেকে একটি ফোনও পান না, তখন অনেকেই নীরবে অশ্রুপাত করেন আর দীর্ঘশ্বাস ছাড়েন। এমনকি সেই সন্তানকে অভিশাপ দিয়ে কামনা করেন, তার সন্তান তার সঙ্গে যে আচরণ করল, ভবিষ্যতে তার ছেলের সন্তানও যেন একই আচরণ করে।
একদিন যে সন্তানের জন্য বাবা-মা ছিলেন স্নেহময়, যে সন্তান একটু আঘাত পেলেই বাবা হয়ে উঠতেন চিন্তিত। যে সন্তানকে নিজে হাত দিয়ে খাইয়ে দিয়েছেন, কোলে-পিঠে করে মানুষ করেছেন এবং কখনই নিজের অসুবিধার কথা সন্তানদের বুঝতে দেননি। আজকাল সমাজে এমন কিছু সন্তান দেখা যায়, যারা কিনা মা-বাবার এতসব আদর-যতেœর কথা ভুলে মা-বাবাকে ঠেলে দেয় অজানা গন্তব্যে। বৃদ্ধ ও অসহায় বলে তাদের ঠিকানা হয় বৃদ্ধাশ্রমে।
ঘরের মধ্যে সবার থাকার জায়গা হলেও এখানে বৃদ্ধ মা-বাবার জায়গা হয় না। আসলে একজন মা-বাবা তার সন্তানদের জন্য যা করেন, তা তাদের পক্ষে সারা জীবনেও শোধ করা সম্ভব নয়। বুড়ো বয়সে এসে তারা চায় একটু শান্তি, ভালোবাসা ও স্নেহ। এ বয়সে একটু আদর-যতœ পেলেই তারা খুশি হন। মা-বাবা চান সন্তানরা যেন তার কথাগুলো মনোযোগ দিয়ে শোনে। আমাদের মনে রাখা উচিত, আজ যিনি সন্তান, তিনিই আগামী দিনের পিতা কিংবা মাতা। বৃদ্ধ বয়সে এসে মা-বাবারা যেহেতু শিশুদের মতো কোমলমতি হয়ে যায়, তাই তাদের জন্য সুন্দর জীবনযাত্রার পরিবেশ তৈরি করাই সন্তানের কর্তব্য। আর যেন কখনো কোনো পিতা-মাতার ঠিকানা বৃদ্ধাশ্রম না হয়, সেদিকে সতর্ক দৃষ্টি রাখতে হবে। তাদের জন্য তৈরি করতে হবে একটা নিরাপদ ও সুন্দর পৃথিবী।
লেখক : সাংবাদিক, গবেষক ও কলামিস্ট

আরও দেখুন

images (1)

নিরাপদ খাদ্য চাই

মোতাহার হোসেন ‘ও ভাই, আমার দেশের মাটি সোনার চেয়ে খাঁটি’ কবিরা কল্পনাপ্রবণ ও ভাবপ্রবণ হয়ে ...

Leave a Reply

%d bloggers like this: