হোম / সম্পাদকীয় / এমপিওবিহীন শিক্ষা প্রতিষ্ঠানগুলো এমপিওভূক্ত করার উদ্যোগ নিন
download

এমপিওবিহীন শিক্ষা প্রতিষ্ঠানগুলো এমপিওভূক্ত করার উদ্যোগ নিন

 

আজকের যুগে শিক্ষা অপরিহার্য একটি বিষয়। শিক্ষাকে অবজ্ঞা করে কেউ সামনের দিকে এগুতে পারবেনা। ব্যাক্তি যেমন শিক্ষা ছাড়া অচল তেমনি জাতীয় উন্নয়নের ক্ষেত্রেও শিক্ষার বিকল্প নেই। শিক্ষাই জাতির মেরুদ-Ñএটি একটি বহুল প্রচলিত বাক্য এবং সত্য বিষয়। আমাদের দেশে বিগত কয়েক বছরে শিক্ষাক্ষেত্রে কিছুটা অগ্রগতি সাধিত হলেও এ ক্ষেত্রে এখনও কিছু সমস্যা রয়ে গেছে। এমপিওবিহীন ৫ হাজার ২৪২টি শিক্ষা প্রতিষ্ঠানের শিক্ষক-শিক্ষিকারা দিনের পর দিন মানবেতর জীবনযাপন করছেন। তাদের কোনো খোঁজখবর নিচ্ছে না সংশ্লিষ্ট মন্ত্রণালয়। এমনকি কবে নাগাদ এসব প্রতিষ্ঠান এমপিওভুক্ত হবে কিংবা আদৌ হবে কিনা এ বিষয়ের কোনো সন্তোষজনক জবাব দিতে পারছেন না সংশ্লিষ্টরা! গত ১৬ মে ২০১৬ তারিখ জাতীয় সংসদ ভবনে অনুষ্ঠিত শিক্ষা মন্ত্রণালয় সম্পর্কিত সংসদীয় স্থায়ী কমিটির বৈঠকে এ নিয়ে ক্ষোভ প্রকাশ করেছেন কমিটির সদস্যরা। তাদের এমন ক্ষোভ অসঙ্গত নয় বলেই আমরা মনে করি। শিক্ষক-শিক্ষিকারা যদি মানবেতর জীবনযাপন করেন তাহলে শিক্ষার উন্নতি-অগ্রগতি সংক্রান্ত সরকারের যে কর্মপরিকল্পনা কিংবা স্বপ্ন রয়েছে তা হোঁচট খেতে বাধ্য। ওই বৈঠকে এমপিওবিহীন শিক্ষা প্রতিষ্ঠানগুলোকে বিভিন্ন ক্যাটাগরিতে বিভক্ত করে তা পর্যায়ক্রমে এমপিওভুক্তির ব্যবস্থা নিতে সংশ্লিষ্ট মন্ত্রণালয়কে অতি দ্রুত পদক্ষেপ নেয়ার তাগিদ দেয়া হয়। বৈঠকে উপস্থিত শিক্ষামন্ত্রী নুরুল ইসলাম নাহিদ রেজাল্টের ভিত্তিতে ভালো প্রতিষ্ঠানগুলোর এমপিওভুক্তির আশ্বাস দিয়েছেন। আমরাও মনে করি উত্তম যে কোনো একটি পন্থা নির্ধারণ করে এমপিওবিহীন শিক্ষা প্রতিষ্ঠানগুলোর পর্যায়ক্রমিক এমপিওভুক্তির পদক্ষেপ নেয়া জরুরি। এমপিওভুক্ত ও এমপিওবিহীন শিক্ষা প্রতিষ্ঠানের শিক্ষক-শিক্ষিকাদের মধ্যে এমনিতেই মানসিক বৈষম্যের বিষয়টি দাগ কেটে রাখে। সংশ্লিষ্ট মন্ত্রণালয়ের বরাত দিয়ে প্রকাশ, দেশে বর্তমানে ২৬ হাজার ৭৬টি এমপিওভুক্ত ও ৫ হাজার ২৪২টি সম্পূর্ণ এমপিওবিহীন শিক্ষা প্রতিষ্ঠান রয়েছে। এমপিওবিহীন শিক্ষা প্রতিষ্ঠানগুলোর ভবিষ্যৎ নিয়ে ভাবতে হবে শিক্ষার সামগ্রিক প্রয়োজনেই। এক সঙ্গে সব প্রতিষ্ঠানকে এমপিওভুক্ত করার বিষয়টি যেহেতু বিদ্যমান বাস্তবতার কারণেই কঠিন সেহেতু পর্যায়ক্রমে একটি যৌক্তিক পন্থা অবলম্বন করে এমপিওভুক্তির পদক্ষেপ নেয়া যেতে পারে। বৈঠকে শিক্ষামন্ত্রী যে পন্থার কথা বলেছেন তা যৌক্তিক বলেই আমরা মনে করি। এর ফলে শিক্ষা প্রতিষ্ঠানগুলোতে শিক্ষার মান রক্ষার কিংবা উন্নত করার ব্যাপারে অধিকতর মনোযোগী হবেন শিক্ষক-শিক্ষিকারা। শিক্ষা প্রতিষ্ঠান এবং শিক্ষক-শিক্ষিকাদের যেসব সমস্যা-সংকট রয়েছে সেসব নিরসনে পরিকল্পিত পরিকল্পনা ও বাস্তবায়নের উদ্যোগ নেয়া দরকার। বেসরকারি শিক্ষা প্রতিষ্ঠানের শিক্ষক-শিক্ষিকা ও অন্য কর্মচারীদের অবসর সুবিধা নিয়েও রয়েছে জটিলতা। এ ক্ষেত্রে তাদের নানা রকম বিড়ম্বনার মুখোমুখি হতে হয় কিংবা হচ্ছে। তাদের অবসর সুবিধাপ্রাপ্তির বিষয়টি সহজীকরণের ব্যাপারেও কার্যকর পদক্ষেপ নেয়া জরুরি। দ্রুত তাদের অবসর সুবিধা নিশ্চিত করার বিষয়টিকে দেখতে হবে মানবিক দৃষ্টিকোণ থেকে। শিক্ষা বিভাগের যেসব অসাধু কর্মকর্তা নিজেদের হীনস্বার্থ চরিতার্থ করতে গিয়ে এ রকম বিড়ম্বনার মুখে শিক্ষক-শিক্ষিকা-কর্মচারীদের ঠেলে দিচ্ছেন তাদের বিরুদ্ধে আইনানুগ ব্যবস্থা নিতে হবে। অতিদ্রুত এমপিওবিহীন প্রতিষ্ঠানগুলোকে এমপিওভূক্তি করার উদ্যোগ গ্রহন করার মাধ্যমে এ সমস্যা সমাধান করা অতিবজরুরী বলে মনে করি।

আরও দেখুন

images (1)

নিরাপদ খাদ্য চাই

মোতাহার হোসেন ‘ও ভাই, আমার দেশের মাটি সোনার চেয়ে খাঁটি’ কবিরা কল্পনাপ্রবণ ও ভাবপ্রবণ হয়ে ...

Leave a Reply

%d bloggers like this: