হোম / অর্থনীতি-সংবাদ / অবৈধ সুতার কারণে প্রতিযোগিতায় টিকতে পারছে না দেশীয় বস্ত্রকল
images

অবৈধ সুতার কারণে প্রতিযোগিতায় টিকতে পারছে না দেশীয় বস্ত্রকল

স্টাফ রিপোর্টার:

খোলাবাজারে ক্রমাগত বেড়েই চলেছে শুল্কমুক্ত সুবিধায় আমদানিকৃত সুতা বিক্রি। এক্ষেত্রে চালানের ঘোষণার তুলনায় পরিমাণে বেশি সুতা আমদানি করা হচ্ছে। তাছাড়া চোরাচালানের মাধ্যমে ভারতীয় সুতাও অবাধে দেশে প্রবেশ করছে। স্থানীয়ভাবে উৎপাদিত সুতার তুলনায় অবৈধ সুতা ২০ শতাংশ কম দামে বিক্রি হচ্ছে। ফলে দেশের বস্ত্রকলগুলো প্রতিযোগিতায় টিকতে পারছে না। বর্তমানে দেশের বিভিন্ন কারখানায় অন্তত ৪শ’ কোটি টাকা মূল্যের সুতা অবিক্রীত পড়ে আছে। টেক্সটাইল মিলস অ্যাসোসিয়েশন (বিটিএমএ) সংশ্লিষ্ট সূত্রে এসব তথ্য জানা যায়।
সংশ্লিষ্ট সূত্র মতে, রফতানিমুখী তৈরি পোশাক খাতই হচ্ছে দেশী সুতার বড় ক্রেতা। দেশের বস্ত্রকলগুলো তৈরি পোশাক খাতের নিটের ৯০ শতাংশ সুতা জোগান দেয়। আর স্থানীয় পর্যায় থেকে ওভেনের মোট চাহিদার মাত্র ৩৫ শতাংশ সুতা জোগান আসে। তারপরও ৪শ’ কোটি টাকার সুতার মজুদ থাকায় বস্ত্রকলগুলো নাজুক অবস্থায় পড়েছে। গ্যাস-বিদ্যুৎসহ অবকাঠামো সংকটের পাশাপাশি সুতার দামের অসম প্রতিযোগিতায় স্থানীয় মিলগুলো টিকে থাকতে হিমশিম খাচ্ছে। এমন পরিস্থিতিতে বাধ্য হয়েই অনেক মিল উৎপাদন কমিয়ে দিয়েছে। এমনকি বিদ্যমান অবস্থার পরিবর্তন না হলে শেষ পর্যন্ত ওসব মিল বন্ধ হয়ে যেতে পারে। দেশের বস্ত্রকলগুলো এতোদিন রফতানিমুখী তৈরি পোশাক ছাড়াও অভ্যন্তরীণ বাজারে ব্যবহৃত কাপড় তৈরিতেও প্রয়োজনীয় সুতার শতভাগ জোগান দিয়ে আসছিল। কিন্তু সেখানেও এখন ঢুকে পড়েছে চোরাচালানের সুতা।
সূত্র জানায়, ৮২ কাউন্টের সুতা আমদানিতে শুল্কমুক্ত সুবিধা নেই। বরং ২০ শতাংশ শুল্ক দিয়েই ওই মানের সুতা আমদানি করতে হয়। ফলে সুতা আমদানি লাভজনক হয় না। তারপরও ৮২ কাউন্টের সুতায় বাজার সয়লাব। এই অবস্থা চলতে থাকলে টেক্সটাইলের পাশাপাশি পোশাক খাতও বিপদে পড়ার আশঙ্কা রয়েছে। কারণ সারাবছরই চোরাচালান কিংবা মিথ্যা ঘোষণার মাধ্যমে কিছু সুতা আসে। তবে ৭-৮ মাস ধরে এ সমস্যা প্রকট আকার ধারণ করেছে। দেশের অন্যতম স্থলবন্দর বেনাপোল দিয়েই ভারতীয় পণ্য এদেশে বেশি আমদানি হয়ে থাকে। গত মাসে ওই বন্দর দিয়ে মাত্র ৩০০ টন সুতা বৈধভাবে আমদানি হয়েছে। কিন্তু বাজারে থাকা আরো বেশি পরিমাণে বিদেশি সুতা মিথ্যা ঘোষণা এবং চোরাচালানের মাধ্যমে দেশে আনা হয়েছে। বেনাপোলের মতো দেশের সব বন্দরেরই একই অবস্থা। নিজস্ব তুলা এবং বিভিন্ন প্রণোদনায় উৎপাদিত ভারতীয় সুতার দাম বাংলাদেশের তুলনায় সাশ্রয়ী। কিন্তু জ্বালানি ব্যয় বেশি এবং অবকাঠামো সংকটে উৎপাদন ব্যয় বেশি হওয়ায় দেশি সুতার দাম বেশি। স্থানীয় সুতার তুলনায় আমদানি করা সুতা অন্তত ২০ শতাংশ কম দামে বিক্রি হচ্ছে। ফলে বৈধ-অবৈধভাবে দেশে আসা ভারতীয় সুতার সঙ্গে দর প্রতিযোগিতায় টিকতে পারছে না স্থানীয় সুতা। নারায়ণগঞ্জ, মাধবদী, বাবুরহাট, নরসিংদী, সিরাজগঞ্জ ও পাবনায় খোলাবাজারে বিদেশি সুতা বিক্রি হচ্ছে। ওসব এলাকায় এখন বিশেষ করে ৪০ থেকে ৮২ কাউন্টের বিদেশি সুতার একচেটিয়া বাজার।
সূত্র আরো জানায়, দেশে অবৈধভাবে বিদেশী সুতার অনুপ্রবেশ বেড়ে যাওয়ার প্রতিকার চেয়ে সম্প্রতি চট্টগ্রাম ও বেনাপোল কাস্টমস হাউসের কমিশনারদের বস্ত্রকল মালিকদের সংগঠন বিটিএমএ থেকে চিঠি দেয়া হয়েছে। তাতে বলা হয়- কিছু অসাধু ব্যবসায়ী বন্ডের মাধ্যমে প্রয়োজনের অতিরিক্ত সুতা আমদানি করে অবৈধভাবে অনেক লাভে খোলাবাজারে বিক্রি করে দিচ্ছে। প্রতিবেশী দেশ থেকে শুল্কমুক্তভাবে আনা ওসব সুতা স্থানীয় স্পিনিং মিলগুলোর উৎপাদিত সুতার চেয়ে কমমূল্যে বিক্রি হচ্ছে। সে কারণে সুতার চাহিদা ও বিক্রি বিপুল পরিমাণে হ্রাস পেয়েছে। এমন পরিস্থিতিতে কিছু মিল তাদের উৎপাদন বন্ধ করে দিয়েছে এবং অনেক শ্রমিক বেকার হয়ে পড়ছে। এই অরাজকতা ঠেকাতে বন্দরগুলোকে মনিটরিং ব্যবস্থা জোরদার করার অনুরোধ জানিয়েছেন বিটিএমএ। প্রয়োজনে বন্দরগুলোকে কারিগরিসহ সব ধরনের সহযোগিতা দিতে বিটিএমএ প্রস্তুত বলে চিঠিতে উল্লেখ করা হয়।
এ প্রসঙ্গে বিটিএমএর সহসভাপতি ফজলুল হক বলেন, অবৈধ আমদানির কারণে ছোট-বড় সব কারখানায় অবিক্রীত সুতার স্তূপ জমেছে। একে তো গ্যাস-বিদ্যুতের সংকটের মধ্যে উৎপাদন চালিয়ে যেতে হচ্ছে। তার ওপর যদি সুতা অবিক্রীত থাকে তাহলে মিলগুলোর পরিস্থিতি কী তা সহজইে বোঝা যায়।

আরও দেখুন

images-21

গরুর মাংস, মুরগি, ডিম, চিনিসহ অন্যান্য পণ্যের দাম বাড়ছেই

রেজাউল হোসেন রুবেল : কয়েকদিন আগে রাজধানীতে প্রতিকেজি গরুর মাংস বিক্রি হয়েছে ৩৮০ টাকা থেকে ...

Leave a Reply

%d bloggers like this: