হোম / জাতীয় / ঘুর্ণিঝড় রোয়ানু: বাঁশখালীর দূর্গত এলাকা পরিদর্শনে ত্রাণমন্ত্রী

ঘুর্ণিঝড় রোয়ানু: বাঁশখালীর দূর্গত এলাকা পরিদর্শনে ত্রাণমন্ত্রী

বাঁশখালী প্রতিনিধি :

ঘূর্ণিঝড় রোয়ানু’র আঘাত পরবর্তী ক্ষয়ক্ষতির সরেজমিন পরিদর্শন ও ক্ষতিগ্রস্থদের মাঝে ত্রাণ ও অর্থ বিতরণের জন্য বাঁশখালী গিয়েছেন দুর্যোগ ব্যবস্থাপনা ও ত্রাণমন্ত্রী মোফাজ্জল হোসেন চৌধুরী মায়া। এসময় মন্ত্রী ত্রাণ বিতরণের পাশাপাশি ক্ষতিগ্রস্থ বেড়িবাঁধ পরিদর্শন করবেন। ত্রাণমন্ত্রীর সাথে ছিলোন দুর্যোগ ব্যবস্থাপনা অধিদপ্তরের মহাপরিচালক রিয়াজ আহমেদ, জেলা প্রশাসক মেজবাহ উদ্দিন ও বিভাগীয় কমিশনার রুহুল আমীন প্রমুখ। দুর্যোগ ব্যবস্থাপনা ও ত্রাণমন্ত্রীর এ সফরে ঘূর্ণিঝড়ে নিহতদের প্রত্যেকের পরিবারকে ২০ হাজার টাকা আহতদের প্রত্যেককে ৫ থেকে ১৫ হাজার টাকা করে সহায়তা দেয়া হবে বলে জানা গেছে। এদিকে গতকাল ঘূর্ণিঝড় রোয়ানু’র আঘাত পরবর্তী ক্ষয়ক্ষতির তালিকা প্রকাশ করেছে চট্টগ্রাম জেলা প্রশাসন। বাঁশখালীর ৯ জনসহ চট্টগ্রামে মোট ১২ জনের মৃত্যুর পাশাপাশি চট্টগ্রামের ১০৪টি ইউনিয়নে ৪ লাখ ৮৩ হাজার ৮৬ জন মানুষ ক্ষতিগ্রস্ত হয়েছেন। জেলা প্রশাসক মেজবাহ উদ্দিন আহমেদ জানান, চট্টগ্রাম মহানগরীর ১৪টি ওয়ার্ডসহ মোট ১০ উপজেলায় ১০৪ টি ইউনিয়নের ৪ লাখ ৮৩ হাজার ৮৬ জন মানুষ ক্ষতিগ্রস্ত হয়েছেন। এর মধ্যে সম্পূর্ণভাবে ক্ষতিগ্রস্ত হয়েছেন ৮১ হাজার ৪১১ জন আর আংশিক ক্ষতিগ্রস্ত হয়েছেন ৪ লাখ ১ হাজার ৬৭৫ জন মানুষ। মোট ক্ষতিগ্রস্ত পরিবারের সংখ্যা ১ লাখ ৩০ হাজার ৯৭টি। এর মধ্যে ১৯ হাজার ৪৩৭টি পরিবার সম্পূর্ণ ও ৮৩ হাজার ৬৬০টি পরিবার আংশিকভাবে ক্ষতিগ্রস্ত হয়েছে। সম্পূর্ণভাবে ক্ষতিগ্রস্ত ঘরের সংখ্যা ২০ হাজার ৮৯২টি আর আংশিকভাবে ক্ষতিগ্রস্ত ঘরের সংখ্যা ২৫ হাজার ৭৬৬টি। রোয়ানু’র কারণে সম্পূর্ণ ক্ষতিগ্রস্ত ফসলের পরিমাণ ১৫৪ আর আংশিক ক্ষতিগ্রস্ত হয়েছে ২ হাজার ৫৪১ একর ফসল। ঘূর্ণিঝড়ের কারণে সৃষ্ট পানিতে মারা গেছে ৮০টি গবাদি পশু ও ৪০ হাজার ৫৫০টি হাঁস-মুরগি। এছাড়া ৩৪টি শিক্ষাপ্রতিষ্ঠান ও ১২টি ধর্মীয় প্রতিষ্ঠান আংশিক এবং ৪৭ কিলোমিটার রাস্তা সম্পূর্ণ এবং ১৪৪ একর সড়ক আংশিক ক্ষতিগ্রস্ত হয়েছে। পাশাপাশি ঘূর্ণিঝড়ে ২৭ কিলোমিটার বেড়িবাঁধ সম্পূর্ণ ও ৬৬ কিলোমিটার বেড়িবাঁধ আংশিক ক্ষতিগ্রস্ত হয়েছে জানান জেলা প্রশাসক। বাঁশখালীর উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তা মো. শামশুজ্জামান বলেন, বেড়িবাঁধ ভেঙে গ্রামে প্রবেশ করা জোয়ারের পানি এখনো নেমে যায়নি। এতে ২৫ গ্রামের প্রায় দেড় লাখ মানুষ এখনো পানিবন্দী অবস্থায় মানবেতর দিন কাটাচ্ছেন। প্রশাসনের পক্ষ থেকে আশ্রয় কেন্দ্রে আসা মানুষদের খাবারের ব্যবস্থা করা হয়েছে। ৫ হাজার পরিবারকে চিড়া, গুঁড়, দেয়াশলাই ও মোমবাতি দেয়া হয়েছে। খানখানাবাদ ইউনিয়নের চেয়ারম্যান আবু সিদ্দিক বলেন, বাঁশখালীর ৪১ হাজার পরিবার এখন পানিবন্দী অবস্থায় আছে। এর মধ্যে ২০ হাজার মানুষে ঘড়বাড়ি আংশিক ও ১০ হাজার ঘড়বাড়ি একেবারে ধ্বংস হয়েগেছে। ১১৯টি আশ্রয় কেন্দ্রে আশ্রয় নিয়েছে অন্তত ১০ হাজার মানুষ। ৪০ হাজার মানুষ গতকাল থেকে যোগাযোগ বিচ্ছিন্ন অবস্থায় রয়েছে। জেলা প্রশাসনের পক্ষ থেকে যে ত্রাণ সহায়তা দেওয়া হচ্ছে, তা প্রয়োজনের তুলনায় অনেক কম। অধিকাংশ মানুষই ত্রাণ বঞ্চিত হচ্ছেন।

আরও দেখুন

1494440404

আজ পবিত্র শবেবরাত বা লাইলাতুল বরাত

সিনিয়র রিপোর্টার: আজ দিবাগত রাতে পবিত্র শবেবরাত বা লাইলাতুল বরাত। সারা বিশ্বে মুসলমানরা এই রাতকে ...

Leave a Reply

%d bloggers like this: