হোম / দেশজুড়ে / পানির পাইপে পড়ে শিশুর মৃত্যু: গ্রেফতার হয়নি চার্জশিটে অভিযুক্তদের কেউই
download (2)

পানির পাইপে পড়ে শিশুর মৃত্যু: গ্রেফতার হয়নি চার্জশিটে অভিযুক্তদের কেউই

RUBEL রেজাউল হোসেন রুবেল :-


২০১৪ সালের ২৬ ডিসেম্বর রাজধানীর শাহজাহানপুরের রেলওয়ে কলোনিতে গভীর পাইপে পড়ে মারা যায় সাড়ে তিন বছরের শিশু জিহাদ। ১৮ মাস পর ছয় জনের বিরুদ্ধে সম্পূরক অভিযোগপত্র দাখিল করেছে গোয়েন্দা পুলিশ (ডিবি)। এর আগে রেলওয়ের প্রকৌশলী ও ঠিকাদারের বিরুদ্ধে অভিযোগপত্র দাখিল করা হলে জিহাদের বাবা নাসিরউদ্দিন আদালতে নারাজি আবেদন করেন। গত ৩ মে সম্পূরক অভিযোগপত্রটি আদালতে গৃহীত হয়েছে, যাতে আরো চারজনকে আসামি করেছে পুলিশ। তবে এ চারজনই গ্রেফতার এড়িয়ে বহাল তবিয়তে আছেন। অপর দু’জন গ্রেফতার হলেও জামিনে ছাড়া পেয়েছেন। মুক্ত আসামিরা বাদিকে টাকার বিনিময়ে সমঝোতার জন্য হুমকি দিচ্ছেন বলে অভিযোগ পাওয়া গেছে। নিহত শিশু জিহাদের বাবা ও মতিঝিলি মডেল স্কুল অ্যান্ড কলেজের নিরাপত্তাকর্মী নাসিরউদ্দিন বলেন, ‘আমরা এখনো বিচার পাইনি। দুইজনকে ধরছিল। তারাও জামিন পাইয়া গেছে। আরো চারজনরে বাদ দিছে। আমি আবেদন করছিলাম। কয়দিন আগে শুনছি- তাদের বিরুদ্ধে চার্জশিট দিছে পুলিশ। তবে তাদের ধরে নাই। তারা আমারে টাকা নিয়া সমঝোতার জন্য চাপ দিছিল। জোর করে স্ট্যাম্পেও স্বাক্ষর নেয়। আমি দুই বার জিডি করি। তিনি আরো বলেন, আমি এদের বিচার চাই, যাদের কারণে আমার ছেলে মারা গেছে। আমিতো টাকা চাইনা। টাকা চাইলে অনেক টাকাই তারা দিত। বাদিপক্ষের আইনজীবি জসিম উদ্দিন খান বলেন, গত ৩ মে আদালতে সম্পূরক চার্জশিটটি গৃহীত হয়েছে। এতে আরো চারজনকে অভিযুক্ত করা হয়েছে। তারা হলেন- রেলওয়ের কর্মকর্তা আবু জাফর, সাইফুল ইসলাম, দীপক বাবু ও নাসির উদ্দিন। গত বছরের ৭ এপ্রিল পানির পাম্প বসানোর প্রকল্প পরিচালক, রেলওয়ের জ্যেষ্ঠ উপসহকারী প্রকৌশলী জাহাঙ্গীর আলম এবং ঠিকাদারি প্রতিষ্ঠান জেএসআর-এর মালিক প্রকৌশলী আবদুস সালামের বিরুদ্ধে চার্জশিট দেয় পুলিশ। এরপর বাদি নারাজি পিটিশনে আবু জাফর, দীপক বাবু, নাসিরউদ্দিন এবং রেলওয়ের পূর্বাঞ্চলের মহাব্যবস্থাপককে (নাম উল্লেখ নেই) অভিযোগে অর্ন্তভুক্ত করার আবেদন করেন। বাদির আবেদনে আদালতের নির্দেশে পুনঃতদন্ত করে ডিবি। পরবর্তী চার্জশীটে তিনজনকে অর্ন্তভুক্ত করা হলেও মহাব্যবস্থাপককে বাদ দিয়েছে পুলিশ। এদিকে মামলা তুলে নিতে হুমকি দেয়ার কারণে সাইফুলকে এই অভিযোগে অর্ন্তভুক্ত করা হয়। অ্যাডভোকেট জসিম বলেন, হাইকোর্ট জিয়াদের পরিবারকে ৩০ লাখ টাকা ক্ষতিপূরণের আদেন দেন। তবে রাস্ট্রপক্ষের আপিলের কারণে ওই আদেশটি এখনো কার্যকর হয়নি। মামলার তদন্তকারী, ডিবির সাবেক এসআই মিজানুর রহমান বলেন, আমি গত ২৮ মার্চই সম্পূরক চার্জশিটটি দিয়ে দিয়েছি। তখনও আসামিদের গ্রেফতার করা যায়নি। এরপর আমাকে সিআইডিতে বদলি করা হয়েছে। এখন আসামিদের গ্রেফতার আদালতের আদেশের বিষয়। ২০১৪ সালের ২৬ ডিসেম্বর শাহজাহানপুরের রেলওয়ে কলোনিতে খেলতে গিয়ে গভীর পাইপে পড়ে যায় শিশু জিয়াদ। এরপর শ্বাসরুদ্ধকর অভিযানের শেষে ২৩ ঘন্টা পর স্থানীয় কয়েকজন যুবক চেষ্টা চালিয়ে তার মৃতদেহ উদ্ধার করে। ঘটনাটি শুধু দেশেই নয়, আন্তর্জাতিক গণমাধ্যমে ব্যাপক আলোচিত হয়। ছেলের মৃত্যুর ঘটনায় অবহেলার অভিযোগে মামলা করেন বাবা নাসির উদ্দিন।

আরও দেখুন

05-

আত্মহত্যা করলেন মডেল সাবিরা

স্টাফ রিপোর্টার : চলতি প্রজন্মের মডেল সাবিরা হোসাইন আত্মহত্যা করেছেন। মঙ্গলবার ভোর ৫টার মিরপুরের রূপনগরে ...

Leave a Reply

%d bloggers like this: