হোম / দেশজুড়ে / ভোলায় ১৪ কি.মি বেড়িবাঁধ ক্ষতিগ্রস্ত, গৃহহীন বহু পরিবার
Cyc-BG20160521105707

ভোলায় ১৪ কি.মি বেড়িবাঁধ ক্ষতিগ্রস্ত, গৃহহীন বহু পরিবার

DSC01486_2 মেহেদী হাসান তানজীল ( ভোলা থেকে ) :-


ঘূর্ণিঝড় রোয়ানুর প্রভাবে ভোলার চার উপজেলায় আটটি পয়েন্টে বেড়িবাঁধ ভেঙে গেছে। চার উপজেলায় প্রায় ১৪ কিলোমিটার বাঁধ ক্ষতিগ্রস্ত হয়েছে বলে জানিয়েছে পানি উন্নয়ন বোর্ড। ফলে জেলার পাঁচ শতাধিক পুকুর ও ঘেরের মাছ ভেসে গেছে।হয়েছে ফসলের ক্ষতি। ভোলা পানি উন্নয়ন বোর্ড বিভাগ-১ এর নির্বাহী প্রকৌশলী বাবুল আখতার জানান, বোরহানউদ্দিন উপজেলার পক্ষিয়া ইউনিয়নের একটি পয়েন্টে বাঁধ ভেঙেছে। এতে দুই কিলোমিটার বাঁধ ক্ষতিগ্রস্ত হয়েছে। বিভাগ-২ এর নির্বাহী প্রকৌশলী কায়ছার আলম জানান, তজুমদ্দিন উপজেলার চৌমুহনী ও হাজিকান্দি, লালমোহন উপজেলায় ধলিগৌরনগর, গজারিয়া ও পাটোয়ারি হাট এবং মনপুরা উপজেলায় হাজীরহাট ও চর ফয়েজউদ্দিন পয়েন্ট দিয়ে বাঁধ ভেঙে লোকালয়ে পানি প্রবেশ করেছে। এ তিন উপজেলায় ১২ কিলোমিটার বাঁধ ক্ষতিগ্রস্ত হয়েছে বলে জানান তিনি। এদিকে, ঘূর্ণিঝড় রোয়ানুর আঘাতে ভোলার মেঘনা তীরবর্তী তজুমদ্দিন উপজেলায় অন্তত তিনশ পরিবার ঘর হারিয়েছে। জেলার বিভিন্ন এলাকায় ভেসে গেছে কয়েকশ পুকুর ও মৎস্য ঘের। উপজেলার শশীগঞ্জ বাজার ও চাঁদপুর ইউনিয়নে সবচেয়ে বেশি ক্ষতিগ্রস্ত হয়েছে। সরজমিনে শশীগঞ্জ বাজার ও চাঁদপুর ইউনিয়নে গিয়ে দেখা যায়, অন্তত তিনশ পরিবারকে খোলা জায়গায় থাকতে হচ্ছে। তারা এখনও কোনোরকম আশ্রয় তৈরি করতে পারেনি। সমগ্র উপজেলাজুড়ে পথে পথে দেখা গেছে ঝড়ের ক্ষতচিহ্ন। ঘর ভেঙে যাওয়ায় রান্না করতে সীমাহীন ভোগান্তি পোহাতে হচ্ছে। কেউ কেউ রান্নাই করতে পারছে না। খাদ্য ও বিশুদ্ধ পানির সংকট দেখা দিয়েছে। তজুমদ্দিন উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তা জালাল আহমেদও এটি স্বীকার করেন। সরকারের পক্ষ থেকে তজুমদ্দিনে একলাখ টাকা ও ১০ মেট্রিক টন চাল বরাদ্দ দেওয়া হয়েছে বলে জানান তিনি। শশীগঞ্জ গ্রামের ক্ষতিগ্রস্ত মাইনুর বেগম বলেন, ঝড়ে ঘড়ে ভেঙে চুরমার হয়েছে, মারা গেছে চারটি হাঁস ও চারটি মুরগি। এখন কীভাবে নতুন করে ঘর তুলব জানি না। জেলে আবদুল মালেক বলেন, ঝড়ে ঘড় ভেঙে গেছে, পাঁচ মণ চাল ছিল; তা ভেসে গেছে পানিতে। কিছুদিন আগে ঘর তুলেছিলাম। এখন আকাশের নিচে রয়েছি। একই এলাকার ইউসুফ বলেন, মুহূর্তের মধ্যে সব শেষ করে নিয়ে গেছে ঝড়টি, এখন আমাদের থাকার কোনো স্থান নেই। দুই দিন ধরে না খেয়ে দিন কাটাচ্ছি। কামরুন নেছা বলেন, প্রাণে রক্ষা পেয়েছি; কিন্তু ঘরটি রক্ষা হলো না, এখন খোলা জায়গায় দিন কাটাচ্ছি। কোথায় রান্না করব, আমাদের কিছুই অবশিষ্ট নেই। জেলা মৎস্য কর্মকর্তা রেজাউল করিম বলেন, জেলায় অন্তত পাঁচশ পুকুর ও মাছের ঘের প্লাবিত হয়েছে। ভোলা জেলা প্রশাসক মোহাং সেলিম উদ্দিন জানান, জেলা প্রশাসনের পক্ষ থেকে জেলার চার হাজার ক্ষতিগ্রস্ত পরিবারের তালিকা তৈরি করা হয়েছে এবং তাদের জন্য ইতিমধ্যে নগদ চার লাখ টাকা ও ৫০ মেট্রিন টন চাল বরাদ্দ দেওয়া হয়েছে। এছাড়া তজুমদ্দিনের ক্ষতিগ্রস্তদের জন্য ৮০ বান্ডেল টিন আর নগদ দুই লাখ ৮০ হাজার টাকা বরাদ্দ দেওয়া হয়েছে। আশা করি, ২/১ দিনের মধ্যে তাদের কাছে এ সাহায্য পৌঁছবে।

আরও দেখুন

162176_so

সোনারগাঁওতে বাসচাপায় মা-মেয়ে নিহত

নারায়ণগঞ্জ প্রতিনিধি: নারায়ণগঞ্জ জেলার সোনারগাঁও উপজেলায় ঢাকা-চট্রগ্রাম মহাসড়কের মল্লিকেরপাড়া এলাকায় গতকাল রাতে বেপরোয়া একটি বাস ...

Leave a Reply

%d bloggers like this: