হোম / জাতীয় / আবাসিক এলাকা থেকে সব অবৈধ ও বাণিজ্যিক স্থাপনা তুলে দেয়ার উদ্যোগ
download

আবাসিক এলাকা থেকে সব অবৈধ ও বাণিজ্যিক স্থাপনা তুলে দেয়ার উদ্যোগ

OMOR মোঃ ওমর আলী :-


রাজধানীর আবাসিক এলাকা থেকে হোটেল, রেস্টুরেন্ট, রেস্ট হাউজসহ সব অবৈধ ও বাণিজ্যিক স্থাপনা তুলে দেয়া হচ্ছে। মন্ত্রিসভা বৈঠকে ৬ মাসের মধ্যেই রাজধানীর আবাসিক এলাকা থেকে সব ধরনের বাণিজ্যিক স্থাপনা অপসারণের নির্দেশ দেয়া হয়। নির্দেশনা অনুযায়ী ইতিমধ্যে কিছু এলাকায় অভিযান পরিচালিত হয়েছে। তবে সরকারের এ সিদ্ধান্তে সংশ্লিষ্টরা আকস্মিকভাবে হোটেল, রেস্টুরেন্ট ও গেস্ট হাউজ বন্ধ করে দিলে দেশের পর্যটন খাত ক্ষতিগ্রস্ত হওয়ার আশঙ্কা করছেন। অবৈধ স্থাপনা উচ্ছেদের তালিকায় রয়েছে- আবাসিক এলাকায় গড়ে ওঠা বার, গেস্ট হাউজ, বেসরকারি কমিউনিটি সেন্টার, ফিটনেস সেন্টার, স্পা, বিউটি পার্লার, বেসরকারি বিশ্ববিদ্যালয়, ক্লিনিক, কলেজ, কোচিং সেন্টার, বুটিকের দোকান। তাছাড়াও আবাসিক এলাকার কোনো প্লটের বেজমেন্ট বা ভূ-তলের গাড়ি পার্কিংয়ের জায়গা বন্ধ রেখে তা বাণিজ্যিক কাজে ব্যবহার করলে সেগুলোও উচ্ছেদ করা হবে। গৃহায়ণ ও গণপূর্ত মন্ত্রণালয় সংশ্লিষ্ট সূত্রে এসব তথ্য জানা যায়।
সংশ্লিষ্ট সূত্র মতে, রাজধানীর ধানমন্ডি, গুলশান, বনানী, উত্তরা ও বারিধারা আবাসিক এলাকার সব অবৈধ ও বাণিজ্যিক স্থাপনা উচ্ছেদের নির্দেশ দেয়া হয়েছে। ইতিমধ্যে রাজধানী উন্নয়ন কর্তৃপক্ষের (রাজউক) কয়েকটি দল ওসব এলাকা পরিদর্শন করেছে। তবে এখনই স্কুল ও হাসপাতাল উচ্ছেদ না করে সেগুলোকে স্থানান্তরের নোটিস দেয়া হবে। রাজউকের নকশা অনুযায়ী ঢাকার দুই সিটি করপোরেশনের ৩ লাখ ২০ হাজার হোল্ডিংয়ের মধ্যে প্রায় পৌনে তিন লাখই আবাসিক ভবন। তার মধ্যে অনুমোদিত ৫৪ হাজার আবাসিক ভবন ও ৭ হাজার সরকারি প্লটে বাণিজ্যিক কার্যক্রম চলছে। বর্তমানে ঢাকার বনানী, গুলশান, বারিধারা, উত্তরা, ধানমন্ডি, মিরপুর ও মোহাম্মদপুর এলাকায় রাজউক এবং পূর্ত বিভাগের দেয়া আবাসিক প্লট রয়েছে। ওসব আবাসিক এলাকার বেশকিছু ভবনে চলছে বাণিজ্যিক কার্যক্রম। ইতিমধ্যে বনানীতে ৩৯৯, গুলশানে ৯০৪, উত্তরায় ১ হাজার ৪৯, মিরপুরে ১ হাজার ৮৩৬, মোহাম্মদপুরে ১ হাজার ৫৫২ ও ধানমন্ডিতে ১ হাজার ১৭০টি আবাসিক ভবনসহ মোট ৬ হাজার ৯১০টি ভবনে বাণিজ্যিক কার্যক্রম চলছে। তাছাড়া বারিধারার কয়েকটি ভবনেও বাণিজ্যিক কার্যক্রম চলছে।
সূত্র জানায়, পরিকল্পিত ঢাকা নগর প্রতিষ্ঠার লক্ষ্যে অবৈধভাবে গড়ে ওঠা ওসব বাণিজ্যিক প্রতিষ্ঠানে ধাপে ধাপে অভিযান চলবে। মন্ত্রিসভার বৈঠকে সিদ্ধান্ত গ্রহণের পর থেকেই নিয়মিত ভ্রাম্যমাণ আদালতের অভিযান চলছে। প্রথম দফায় রাজধানীর ৭টি এলাকায় অভিযান পরিচালিত হয়েছে। যেসব আবাসিক ভবনে বাণিজ্যিক কার্যক্রম চলছে সেসব ভবনের গ্যাস, পানি ও বিদ্যুত্ সংযোগ বিচ্ছিন্ন করার কথাও ভাবা হচ্ছে। শিল্প, বাণিজ্যিক বা আবাসিক যা-ই হোক না কেন কেউ যদি বেজমেন্ট বা গাড়ি পার্কিংয়ের জায়গা বন্ধ করে রাখেন বা বাণিজ্যিক কাজে ব্যবহার করেন তবে সেগুলো উচ্ছেদ করা হবে। সিটি করপোরেশন সেখানে ট্রেড লাইসেন্স দেবে না। আবাসিক এলাকায় কোনো হোটেল, গেস্ট হাউজ, রেস্টুরেন্ট থাকতে পারবে না।
সূত্র আরো জানায়, সরকার বিগত কয়েক বছর ধরেই দেশের পর্যটন খাতের উন্নয়ন ও বিদেশী পর্যটক আকর্ষণে বিভিন্ন উদ্যোগ নিয়েছে। তারই অংশ হিসেবে চলতি বছরকে সরকার পর্যটন বর্ষ হিসেবে ঘোষণা করে। ওই ঘোষণা অনুযায়ী ২০১৬-১৭ সালের মধ্যে দেশে ১০ লাখ বিদেশী পর্যটক আকর্ষণের লক্ষ্যে কাজ করছে বেসামরিক বিমান পরিবহন ও পর্যটন মন্ত্রণালয়। সে প্রেক্ষিতেই গত ৪ এপ্রিল রাজধানীর আবাসিক এলাকাগুলো থেকে সব বাণিজ্যিক স্থাপনা ৬ মাসের মধ্যে উচ্ছেদের ঘোষণা দেয়া হয়। এ অবস্থায় হোটেল, রেস্টুরেন্ট ও গেস্ট হাউজ উঠিয়ে দিলে প্রত্যাশিত সংখ্যক পর্যটকের আবাসন সুবিধা বিঘিœত হওয়ার আশঙ্কা করছেন খাতসংশ্লিষ্টরা।
এদিকে এ প্রসঙ্গে ফেডারেশন অব হোটেল গেস্ট হাউজ অ্যান্ড রেস্টুরেন্ট ওনার্স অ্যাসোসিয়েশনের সাধারণ সম্পাদক ফ ম আলাউদ্দিন মাহমুদ বলেন, দেশী-বিদেশী পর্যটকের আবাসন ও মানসম্মত খাবার নিশ্চিতে বেসরকারি উদ্যোগে রাজধানীর বিভিন্ন এলাকায় হোটেল, রেস্টুরেন্টসহ বিভিন্ন পর্যটন-সংশ্লিষ্ট প্রতিষ্ঠান গড়ে উঠেছে। হঠাৎ করেই সরকার ওসব প্রতিষ্ঠান সরিয়ে ফেলার সিদ্ধান্ত নেয়ায় তা পর্যটন খাতকে ক্ষতিগ্রস্ত করবে। পাশাপাশি ওসব প্রতিষ্ঠানে কর্মরত কর্মকর্তা-কর্মচারীরাও ক্ষতিগ্রস্ত হবেন।
অন্যদিকে গৃহায়ণ ও গণপূর্তমন্ত্রী মোশাররফ হোসেন গণমাধ্যমকে জানান, ঘরবাড়ি করার অনুমতি নিয়ে স্থাপিত গাড়ির শোরুম ও রেস্ট হাউজ উচ্ছেদ করা হবে। যেভাবেই হোক আবাসিক এলাকা থেকে অবৈধ সব স্থাপনা উচ্ছেদ করা হবে। তবে স্কুল ও হাসপাতালকে নোটিস দিয়ে স্থানান্তর করার সময় দেয়া হবে। আর যদি কেউ রাজউকের নির্দেশ না মানে তার বিরুদ্ধে ব্যবস্থা নেয়া হবে।

 

আরও দেখুন

Li-Mie-Khang

উন্নয়ন সহযোগিতা বাড়াতে আগামী রবিবার ঢাকায় আসছেন কোইকা প্রেসিডেন্ট

সিনিয়র রিপোর্টার: বাংলাদেশের সঙ্গে উন্নয়ন সহযোগিতা জোরদারের বিষয়ে আলোচনা করতে আগামী রবিবার ঢাকায় আসছেন কোরিয়ার ...

Leave a Reply

%d bloggers like this: