হোম / স্বাস্থ্য-সংবাদ / প্রচন্ড গরমে হঠাৎ জ্বরে কি করবেন?
06

প্রচন্ড গরমে হঠাৎ জ্বরে কি করবেন?

এম সংবাদ ডেস্ক:
প্রচন্ড গরমে সবাই কাহিল হয়ে পড়েছে। শরীর থেকে ঘামের নাম করে বের হয়ে যাচ্ছে পানি। ফলে শরীরে দেখা দিচ্ছে পানি শূন্যতা, আর সেই সাথে শরীরে বাসা বাঁধছে নানান শরিরিক সমস্যা। এদের মাঝে জ্বর অন্যতম। ছোট বড় সবারই গরমের সময় জ্বর হওয়ার সম্ভবনা থাকে। হঠাৎ করে গরমটা পড়ে যাওয়ায়, সবাই বাড়ি ফিরে ঠান্ডা পানি দিয়ে গোসল করে, আর সেই সাথে ঠা-া পানি খাওয়া শুরু করে। আবার হুট করেই রাতে এসি চালিয়ে শোওয়া শুরু হয়ে যাওয়ার কারনেই, যাঁদের অ্যালার্জির প্রবণতা রয়েছে বা সর্দি-কাশির রয়েছে, তাঁদের চট করে ঠান্ডা লেগে যায়। কিন্তু হঠাৎ করে এই জ্বর আসাতে দুর্বল আর কাহিল হবার আগেই কিছু পদক্ষেপ নিতে হবে।
হঠাৎ করে জ্বর আসার প্রথম করনীয় কাজ হল, পর্যাপ্ত বিশ্রাম গ্রহন। এসময় কাজ করতে থাকলে শরীরে ক্লান্তি কমার কমার সুযোগ পায় না। ফলে জ্বর আরও বেশি করে বেড়ে যায়। তাই উপযুক্ত বিশ্রাম নিয়ে শরীরকে আরাম দিতে হবে। সেই সাথে প্রচুর পানি খেতে হবে। গরমে শরীরে পানি অভাবে জ্বরের সাথে সাথে অনন্য সমস্যাও দেখা দিয়ে পারে। তাছাড়া পানি জ্বরের জীবাণু ধ্বংস করতে কার্যকরী। তাই এসময় প্রচুর পানি পান করতে হবে। তবে জ্বরের কারনে যদি মুখের রুচি নষ্ট হয়ে যায় তবে, পানির বদলে তাজা ফলের শরবত উপকারী। এতে শরীরে শক্তির সঞ্চার হয়।
জ্বরের প্রকোপ কমাতে দিনে দুটা প্যারাসিটামল খাওয়া যেতে পারে। তবে কখনও কখনও প্যারাসিটামল খাওয়ার পর জ্বর কমে গিয়ে আবার ফিরে আসে। সে ক্ষেত্রে যদি জ্বর কমার কোন লক্ষন দেখা না যায়, তাহলে ডাক্তারের পরামর্শ নিতে হবে। তবে তার আগে কিছু সময় পর পর থার্মোমিটারের সাহায্যে জ্বর মেপে, তার হিসেব রাখতে হবে। ডাক্তারের কাছে যাবার আগে এই বিষয়গুলো সম্পর্কে জানা থাকতে হবে।
প্যারাসিটামল সেবনের সাথে সাথে অবশ্যই জ্বর কমাতে মাথায় পানি দিতে হবে। জ্বর বাড়ার সাথে সাথে মাথায় পানি দেয়া প্রয়োজন। এতে জ্বরের প্রকোপ বেশ কমে যায়। তবে মাথায় পানি দেয়ার পর চুল দীর্ঘসময়ের জন্য ভিজা রাখা যাবে না। এতে জ্বর বেড়ে যেতে পারে। আবার ভিজা চুলের কারনে জ্বরের সাথে সাথে গলা ব্যথাসহ সর্দি কাশি দেখা দিতে পারে। তাই ভিজা চুল থেকে ঠা-া লাগার আগেই চুল ভালভাবে মুছে শুকিয়ে নিতে হবে। মাথায় ঠা-া পানি ব্যবহার করলেও শরীর স্পঞ্জ করতে স্বাভাবিক তাপমাত্রার পানি ব্যবহার করতে হবে। আর সেই পানিতে ভেজানো তোয়ালে দিয়ে সারা শরীর মুছে নিতে হবে। এবং জ্বর ১০১ ডিগ্রি ফারেনহাইটে নেমে না আসা পর্যন্ত এই স্পঞ্জিং চালিয়ে যেতে হবে। শরীর মোছার পর মোটা বা ভারী পোশাক পড়া যাবে না। হালকা, পাতলা নরম ধরনের পোশাক পড়লে রোগী ভালো বোধ করবে।
অনেকেই জ্বরের সাথে বমির প্রকোপ আসতে পারে। সেক্ষেত্রে কখনোই বমি আটকে রাখা উচিত না। বমি আসলে সাথে সাথে করে নিতে হবে। কারন অনেক সময় বমি হবার পর জ্বর কমে আসে। বমি আর জ্বরের পর এবং জ্বর থাকাকালীন সময়ে শরীর বেশ দুর্বল হয়ে পড়ে। তাই এসময় পুষ্টিকর খাবার খেতে হবে। চিকেন সুপ, আনারস, হেলথ ড্রিঙ্ক ইত্যাদি খুব উপকার দিবে। সহজে হজম হতে পারে এমন খাবার খেতে হবে। খাবারে অরুচি থাকলে, একসাথে অনেকটা খেতে হবে না। একটু একটু করে সারা দিনে বার বার খাবার খেতে হবে। এতে আস্তে আস্তে মুখের রুচি ফিরে আসবে। ফলে আর খেতে অসুবিধে হবে না। খাবারের সাথে লেবু যোগ করতে পারলে ভালো। এতে ভিটামিন-সি থাকে, যা খেলে মুখের স্বাদ ফিরে আসতে পারে।
জেনে রাখা ভালো যে, চিকেন পক্স বা হাম হবার পূর্ব লক্ষণ হতে পারে তীব্র জ্বর। তাই জ্বর হলে অবশ্যই খেয়াল রাখতে হবে, শরীরের কোথাও গুটি গুটি কিছু দেখা যাচ্ছে কিনা। এবং সেই অনুযায়ী ডাক্তারের সাথে পরামর্শ করতে হবে।

আরও দেখুন

04-

দাঁত দিয়ে নখ কাটার অভ্যাস ত্যাগ করা যায় যেভাবে

এম সংবাদ লাইফস্টাইল: রূপচর্চাবিষয়ক একটি ওয়েবসাইটে দাঁত দিয়ে নখ কাটার অভ্যাস কীভাবে ত্যাগ করা যায় ...

Leave a Reply

%d bloggers like this: