হোম / সম্পাদকীয় / খেলাপি ঋণ আদায়ে বলিষ্ঠ ভুমিকা রাখুন
01

খেলাপি ঋণ আদায়ে বলিষ্ঠ ভুমিকা রাখুন

 

বাংলাদেশে ব্যাংক খাতে বর্তমানে প্রকৃত খেলাপি ঋণ ১ লাখ কোটি টাকা ছাড়িয়ে গেছে! অবলোপন করা ঋণ ও নিয়মিত খেলাপি ঋণ মিলিয়ে দেশে প্রথমবারের মতো প্রকৃত খেলাপির পরিমাণ লাখ কোটি টাকা ছাড়াল। বর্তমান বিশ্বে যে কোনো ধরনের আর্থিক লেনদেন কিংবা ঋণসহ বিভিন্ন কার্যক্রম পরিচালনার ক্ষেত্রে ব্যাংকব্যবস্থার প্রয়োজনীয়তা অনস্বীকার্য। সংগত কারণেই যদি ব্যাংকিং খাতে এ ধরণের নেতিবাচক পরিস্থিতি সৃষ্টি হয় তবে তা সন্দেহাতীতভাবেই উদ্বেগজনক। তাই আমরা মনে করি এ পরিস্থিতি থেকে উত্তরণে কার্যকর পদক্ষেপ গ্রহণ করা আবশ্যক। বাংলাদেশ ব্যাংকের সর্বশেষ তথ্য অনুযায়ী, গত মার্চ পর্যন্ত খেলাপি ৫৯ হাজার ৪১১ কোটি টাকা। শুধু জানুয়ারি-মার্চ সময়েই ব্যাংক খাতের খেলাপি ঋণ বেড়েছে ৮ হাজার কোটি টাকারও বেশি। আর খেলাপি হওয়ার পর আদায়ের সম্ভাবনা না থাকায় এখন পর্যন্ত ৪১ হাজার ২৩৭ কোটি টাকার ঋণ অবলোপন করা হয়েছে। এ ক্ষেত্রে আমরা উল্লেখ করতে চাই, বাংলাদেশ ব্যাংকের সাবেক ডেপুটি গভর্নর বলেছেন, বিপুল পরিমাণ খেলাপি ঋণ দেশের জন্য অশনিসংকেত। ফলে এ পরিস্থিতি বিবেচনা করে সংশ্লিষ্টদের যথার্থ উদ্যোগ গ্রহণ করাই সমীচীন। তবে এও মনে রাখা দরকার, এই বিপুল পরিমাণ খেলাপি ঋণ হওয়া অস্বাভাবিক নয়। কেননা গত কয়েক বছরে যে ঋণ দেয়া হয়েছে তা আদায় না হওয়া এবং সরকারি খাতের ব্যাংকগুলোর চেয়ারম্যান-এমডিরা মিলেও দুর্নীতি করেছেন। একই সঙ্গে বেসরকারি ব্যাংকও আগ্রাসী ব্যাংকিং করেছে এমন অভিযোগ নতুন নয়। ফলে আমরা বলতে চাই, সার্বিক পরিস্থিতি অবলোকন করে বাংলাদেশ ব্যাংকের ভূমিকা আরো যুগোপযোগী করতে হবে। কেননা কেন্দ্রীয় ব্যাংকের কঠোরতা ও যথার্থ পদক্ষেপই এ পরিস্থিতি নিরসনে যথাযথ ভূমিকা রাখতে পারে। এমন অভিযোগও আমলে নিতে হবে যে, এক ব্যাংকের মালিক অন্য ব্যাংকের মালিককে ঋণ নেয়ার সুযোগ করে দেন। এ ছাড়া এর আগেও বিভিন্ন সময়ের খেলাপি ঋণের পরিপ্রেক্ষিতে ঋণখেলাপি হলে বড় ধরনের ছাড় পাওয়া যায় এ ধারণা থেকেও অনেক সময় ইচ্ছাকৃতভাবে খেলাপি হওয়ার নজির সৃষ্টি হয়েছে বলে অভিযোগ আছে! এটা স্পষ্ট যে, দেখা যায় ছোট ঋণের চেয়ে ধনীদের বড় ঋণই বেশি খেলাপি হচ্ছে। সংগত কারণেই যদি ব্যাংকগুলো নিজেদের স্বার্থেই বড় ঋণের পরিবর্তে ছোট ঋণের দিকে ঝোঁকে তবুও এই খেলাপি ঋণের পরিমাণ কমিয়ে আনা সম্ভব বলেই প্রতীয়মান হয়। এও আমলে নেয়া প্রয়োজন, যদি দীর্ঘমেয়াদে বিপুল পরিমাণ খেলাপি ঋণের বিষয়টি চলতে থাকে তবে এর নেতিবাচক প্রভাব পড়বেই। কিন্তু এটা মনে রাখতে হবে, ব্যাংকের টাকা আমানতকারীদের অর্থ। ফলে খেলাপি ঋণ বাড়তে থাকলে সেই পরিস্থিতি সামাল দিতে ব্যাংকের মূলধন ও রিজার্ভে টান পড়তে পারে, যা কাম্য নয়। সর্বোপরি আমরা সরকারকে বলতে চাই, যে কোনো মূল্যেই খেলাপি ঋণকে নিয়ন্ত্রণ করা জরুরি। একই সঙ্গে ব্যাংকব্যবস্থার সার্বিক উন্নয়ন নিশ্চিত করতেও পদক্ষেপ নিতে হবে। খেলাপি ঋণের পরিমাণ কমিয়ে আনতে সুষ্ঠু পদক্ষেপ ও বলিষ্ঠ ভুমিকা রাখতে হবে। ব্যাংকিং খাত যেন অনিয়ম ও দুর্নীতির আখড়া না হয় সেটিও নিশ্চিত করতে হবে।

আরও দেখুন

images (1)

নিরাপদ খাদ্য চাই

মোতাহার হোসেন ‘ও ভাই, আমার দেশের মাটি সোনার চেয়ে খাঁটি’ কবিরা কল্পনাপ্রবণ ও ভাবপ্রবণ হয়ে ...

Leave a Reply

%d bloggers like this: