হোম / জাতীয় / ঐক্যফ্রন্টের গণসম্মিলন ৬ ফেব্রুয়ারি
image-13

ঐক্যফ্রন্টের গণসম্মিলন ৬ ফেব্রুয়ারি

স্টাফ রিপোর্টার:

ভোটে অনিয়ম ও কারচুপির বিরুদ্ধে জনমত গড়ে তোলার পাশাপাশি পরবর্তী করণীয় ঠিক করতে আগামী ৬ ফেব্রুয়ারি রাজধানীতে সংলাপের আয়োজন করতে যাচ্ছে জাতীয় ঐক্যফ্রন্ট। এতে আওয়ামী লীগসহ দেশের সব রাজনৈতিক দল, সামাজিক-সাংস্কৃতিক ও পেশাজীবী সংগঠন এবং সুশীল সমাজের প্রতিনিধিদের আমন্ত্রণ জানানো হবে। তবে জামায়াতে ইসলামীকে আমন্ত্রণ জানানো হবে না। জাতীয় ঐক্যফ্রন্টের পক্ষ থেকে এ সংলাপকে ‘গণসম্মিলন’ হিসেবে আখ্যায়িত করা হয়েছে।

জাতীয় ঐক্যফ্রন্টের একাধিক শীর্ষ নেতার সঙ্গে আলাপ করে জানা গেছে এসব তথ্য। তারা আরও জানান, রমনার ইঞ্জিনিয়ার্স ইন্সটিটিউশন মিলনায়তন, কাকরাইলের ডিপ্লোমা ইঞ্জিনিয়ার্স ইন্সটিটিউশন মিলনায়তন ও গুলিস্তানের মহানগর নাট্য মঞ্চ- এই তিনটি ভেন্যু প্রাথমিকভাবে ঠিক করে রাখা হয়েছে।

আজ আনুষ্ঠানিকভাবে আবেদন জানানো হবে। অনুমতি মিললে এর যে কোনো একটিতে অনুষ্ঠিত হবে এই গণসম্মিলন। এর আগে আমন্ত্রণপত্র ছাপানা ও বিতরণের কাজ শুরু হবে।

একাদশ জাতীয় সংসদ নির্বাচনের পর জাতীয় ঐক্যফ্রন্টের নেতারা গত ৮ জানুয়ারি এক বৈঠকে জাতীয় সংলাপ করার সিদ্ধান্ত নেন। বৈঠক শেষে এ সিদ্ধান্তের কথা জানিয়েছিলেন এ জোটের মুখপাত্র ও বিএনপির মহাসচিব মির্জা ফখরুল ইসলাম আলমগীর। মূলত সংসদ নির্বাচন-পরবর্তী করণীয় নিয়ে সব রাজনৈতিক দল ও নাগরিক সমাজের মতামত জানতে এ সংলাপের আয়োজন করার সিদ্ধান্ত নেয় জাতীয় ঐক্যফ্রন্ট।

কিন্তু নিজেদের মধ্যে কিছুটা টানাপোড়েন, সমন্বয়হীনতাসহ বিভিন্ন কারণে এ উদ্যোগ কিছুটা থমকে দাঁড়ায়। এ অবস্থার মধ্যেই বুধবার জাতীয় ঐক্যফ্রন্টের শীর্ষ নেতা ও গণফোরাম সভাপতি ড. কামাল হোসেনের মতিঝিলের চেম্বারে জোটের স্টিয়ারিং কমিটির বৈঠকে সংলাপের তারিখ ও স্থান চূড়ান্ত করার কথা ছিল।

কিন্তু শেষ মুহূর্তে তা বাতিল করে আজ একই জায়গায় বৈঠকটি অনুষ্ঠিত হবে। ড. কামাল হোসেন এতে সভাপতিত্ব করবেন। জাতীয় ঐক্যফ্রন্টের শীর্ষ নেতারা উপস্থিত থাকবেন।

জানতে চাইলে এ প্রসঙ্গে জাতীয় ঐক্যফ্রন্টের স্টিয়ারিং কমিটির সদস্য ও গণস্বাস্থ্য কেন্দ্রের ট্রাস্টি ডা. জাফরুল্লাহ চৌধুরী বুধবার যুগান্তরকে বলেন, ‘মানুষ ৩০ নভেম্বর ভোটের নামে প্রহসন দেখেছে। মধ্যরাতে ভোটের বাক্স ভরে রাখা হয়েছে। দেশি-বিদেশি মিডিয়ায় এসব খবর উঠে এসেছে। এই ভোট ডাকাতি এবং প্রহসনের নির্বাচনের বিরুদ্ধে জনমত গড়ে তুলতে হবে। এর জন্য একটু সময় প্রয়োজন। আমরা সেই সময়টা নিচ্ছি। সংলাপের আয়োজন করতে যাচ্ছি।

এতে বিভিন্ন রাজনৈতিক দল, সামাজিক-সাংস্কৃতিক-পেশাজীবী সংগঠন এবং সুশীল সমাজের প্রতিনিধিরা উপস্থিত থাকবেন। তারা সবাই কথা বলবেন, মতামত দেবেন। সবার মতামত নিয়ে আমরা আমাদের পরবর্তী করণীয় ঠিক করব।’ তিনি আরও বলেন, জনগণ ক্ষুব্ধ। তারা এই অবিচার মেনে নেবে না। আজ হোক, কাল হোক এর বিরুদ্ধে রুখে দাঁড়াবেই তারা।

জাতীয় ঐক্যফ্রন্টের প্রধান সমন্ব^য়ক ও গণফোরামের সাধারণ সম্পাদক মোস্তফা মোহসীন মন্টু বলেন, ‘সবার মতামত নিয়ে আমরা আমাদের করণীয় ঠিক করতে এ সংলাপের আয়োজন করতে যাচ্ছি। সরকারি দলসহ সব দলকেই সংলাপে আমন্ত্রণ জানানো হবে। প্রশ্নবিদ্ধ নির্বাচনে সৃষ্ট সংকট সমাধানে সবার মতামত নিয়েই সামনের দিকে এগোতে চাই আমরা।’

জাতীয় ঐক্যফ্রন্টের একাধিক সূত্র জানিয়েছে, গণসম্মিলনে বিরোধী রাজনৈতিক দলগুলোর পাশাপাশি সরকারি দল আওয়ামী লীগ ও তাদের নেতৃত্বাধীন ১৪ দলীয় জোটের শরিক দলগুলো এবং বর্তমান সংসদের বিরোধী দল জাতীয় পার্টিকেও আমন্ত্রণ জানানো হবে। ইতিমধ্যে একটি তালিকাও তৈরি করছে তারা।

জামায়াতে ইসলামী বাদে বিএনপির নেতৃত্বাধীন ২০ দলীয় জোটের শরিক দলগুলো, বাম গণতান্ত্রিক জোট, ইসলামী শাসনতন্ত্র আন্দোলনসহ বাম প্রগতিশীল ঘরানার অপরাপর রাজনৈতিক দলগুলোকেও এ সংলাপে আমন্ত্রণ জানানো হবে। জাতীয় ঐক্যফ্রন্ট নেতাদের মতে, সবার উপস্থিতি সংলাপকে কার্যকর করবে।

সংলাপে রাজনৈতিক দলের নেতাদের পাশাপাশি সংবিধান বিশেষজ্ঞ, আইনজীবী, শিক্ষক, সাংবাদিক, অর্থনীতিবিদ, অবসরপ্রাপ্ত আমলা, চিকিৎসক, লেখক, সাহিত্যিক, এনজিও প্রতিনিধিদেরও আমন্ত্রণ জানানো হবে। জাতীয় ঐক্যফ্রন্ট নেতারা জানান, সংলাপে জোটের প্রার্থীরা তাদের নির্বাচনী অভিজ্ঞতাও তুলে ধরবেন।

নির্বাচন সামনে রেখে গত বছরের অক্টোবরে বিশিষ্ট আইনজীবী ড. কামাল হোসেনকে সামনে রেখে বিএনপি, গণফোরাম, জাতীয় সমাজতান্ত্রিক দল-জেএসডি ও নাগরিক ঐক্য মিলে জাতীয় ঐক্যফ্রন্ট গঠন করে।

পরে এ জোটে যোগ দেয় কৃষক শ্রমিক জনতা লীগ। নির্বাচনে জাতীয় ঐক্যফ্রন্টের প্রার্থীরা আটটি আসনে বিজয়ী হন। এর মধ্যে ছয়টি আসনে বিএনপি এবং দুটি আসনে গণফোরামের প্রার্থীরা জয়ী হন। তবে সংসদ সদস্য হিসেবে এখনও তারা শপথ নেননি।

আরও দেখুন

21584783576

দেশের মানুষের সঙ্গে প্রতারণা করা যাবে না : তথ্যপ্রযুক্তিমন্ত্রী

সিনিয়র রিপোর্টার: ডাক, টেলিযোগাযোগ ও তথ্যপ্রযুক্তিমন্ত্রী মোস্তাফা জব্বার বলেছেন, দেশের মানুষ এখন টুজি, থ্রিজি, ফোরজির ...

Leave a Reply

%d bloggers like this: