হোম / দেশজুড়ে / বাগেরহাটে গ্রিল কেটে আড়াই মাসের শিশু চুরি!
baby-20190101220031

বাগেরহাটে গ্রিল কেটে আড়াই মাসের শিশু চুরি!

বাগেরহাট প্রতিনিধি:

মা-বাবার আদরের সন্তান আবদুল্লাহ। সবে মাত্র আড়াই মাস বয়স। পৃথিবীতে আসার পর থেকেই শিশুটি একের পর এক বিপত্তিতে পড়ছে। এরই মধ্যে একটি অপারেশন করানো হয়েছে তার। চিকিৎসকের পরামর্শ অনুযায়ী আরেকটি অপারেশনের জন্য মা-বাবা শিশুটিকে প্রস্তুত করছিলেন। রাত ৩টায় ওষুধ খাইয়ে শিশুটিকে নিয়েই ঘুমিয়ে পড়েছিলেন মা-বাবা। কিন্তু ভাগ্যের পরিহাস, রাত সাড়ে ৪টায় ঘুম ভাঙলে দেখেন আদরের সন্তানটি বিছানায় নেই। শিশুটি অপহৃত হয়েছে।

বাগেরহাটের মোরেলগঞ্জে বিশারীঘাট গ্রাম। ওই গ্রামের সোহাগ হাওলাদার পেশায় দলিল লেখক। দেড় বছরের সুমাইয়া আর আড়াই মাসের আবদুল্লাহকে নিয়ে তাঁর ছোট্ট সংসার। সন্তানদের নিয়ে ঘুমন্ত অবস্থায় মা-বাবার পাশ থেকে শিশুটিকে চুরি করে নিয়ে যায় অপহরণকারীরা।

সোহাগ হাওলাদারের ঘরের গ্রিল কেটে রবিবার মধ্যরাতে অপহরণকারীরা এই লোমহর্ষক ঘটনাটি ঘটায়। গতকাল সোহাগ হাওলাদার বলেন, ‘রাত ৩টার দিকে অসুস্থ ছেলেকে ওষুধ খাওয়াই। এরপর আরেক সন্তান সুমাইয়াসহ আমরা ঘুমিয়ে পড়ি। রাত সাড়ে ৪টায় জেগে দেখি বিছানায় আমার সন্তান আবদুল্লাহ নেই। মোবাইল ফোনটিও নেই। বিছানা থেকে নেমে দেখি জানালার গ্রিল খোলা, রুমের দরজা খোলা। অপহরণকারীরা যখন ঘরে প্রবেশ করেছিল টের পেয়েছিলাম। চেষ্টা করেও উঠতে পারিনি। সম্ভবত স্প্রেজাতীয় কোনো বিষাক্ত পদার্থ ছিটিয়ে আমাদের অজ্ঞান করা হয়। অপহরণকারীরা ঘরের অন্য কক্ষগুলোর দরজা বাইরে থেকে আটকে রেখেছিল।’

তিনি আরো বলেন, ‘আমি একজন দলিল লেখক। কারো সঙ্গে আমার শক্রতা নেই। কখনো এ ধরনের আভাস পাইনি।’ পুলিশ প্রশাসনের কাছে তিনি দ্রুত ছেলেকে উদ্ধারের দাবি জানান।

ঘটনার পর গতকাল সকাল ৭টা ২০ মিনিটে সোহাগ হাওলাদারের ছোট ভাই রাজুর মোবাইলে সোহাগের ফোন থেকে অপহরণকারীরা ফোন করে ১০ লাখ টাকা মুক্তিপণ দাবি করে। পরে সকাল সাড়ে ৭টা ও সাড়ে ৯টায় আরো দুই দফা ফোন করে পাঁচ লাখ টাকা মুক্তিপণ দাবি করে মোরেলগঞ্জ হাসপাতালের পেছনে যেতে বলা হয়। কিন্তু সেখানে গিয়ে কাউকে পাওয়া যায়নি। ফোনটিও বন্ধ করে রাখে অপহরণকারীরা।

সোহাগের বাবা সালেহ আহম্মদ হাওলাদার বলেন, ‘আমার নাতি অসুস্থ। কয়েক দিন অগে তার পেটে অপারেশন করানো হয়েছে। আরেকটি অপারেশনের প্রস্তুতি চলছিল। এ অবস্থায় অপহরণকারীরা এমন নির্মম ঘটনা ঘটাল কেন বুঝে উঠতে পারছি না।’

সোহাগের স্ত্রী রেশমা বেগম বলেন, ‘ওষুধ খাওয়ানোর পর আবদুল্লাহকে বুকের দুধ খাওয়াতে খাওয়াতে ঘুমিয়ে পড়ি। সে আমার কোলেই ছিল। কিভাবে নিয়ে গেল টের পাইনি!’

মোরেলগঞ্জ থানার ওসি কে এম আজিজুল ইসলাম বলেন, ‘আমরা ঘটনাস্থল পরিদর্শন করেছি। শিশুটিকে উদ্ধারে পুলিশের চারটি টিম মাঠে নেমেছে। কারা কী কারণে এ ঘটনা ঘটিয়েছে তা এখনো স্পষ্ট করে বলা যাচ্ছে না। অপহরণকারীরা মাঝেমধ্যে মোবাইল ফোন চালু করে আবার বন্ধ করে ফেলছে। প্রযুক্তি ব্যবহার করে শিশুটিকে উদ্ধার এবং অপহরণকারীদের গ্রেপ্তারে অভিযান চলছে।’ গতকাল সন্ধ্যা ৭টায় এ রিপোর্ট লেখার সময় মোরেলগঞ্জ থানায় মামলা দায়েরের প্রস্তুতি চলছিল।

আরও দেখুন

162176_so

সোনারগাঁওতে বাসচাপায় মা-মেয়ে নিহত

নারায়ণগঞ্জ প্রতিনিধি: নারায়ণগঞ্জ জেলার সোনারগাঁও উপজেলায় ঢাকা-চট্রগ্রাম মহাসড়কের মল্লিকেরপাড়া এলাকায় গতকাল রাতে বেপরোয়া একটি বাস ...

Leave a Reply

%d bloggers like this: