হোম / জাতীয় / কাউকে জঙ্গি-সন্ত্রাসবাদ নিয়ে খেলতে দেবো না
শেখ-হাসিনা

কাউকে জঙ্গি-সন্ত্রাসবাদ নিয়ে খেলতে দেবো না

স্টাফ রিপোর্টার:

প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনা বলেছেন, জঙ্গি সন্ত্রাসবাদ নিয়ে অনেকে খেলতে চাইবে। কিন্তু সেই খেলা আমি খেলতে দেবো না। এ দেশে জঙ্গি সন্ত্রাসবাদের কোন স্থান নেই। বৃহস্পতিবার রাতে দশম জাতীয় সংসদের দশম অধিবেশনের সমাপনী বক্তৃতায় তিনি এসব কথা বলেন। প্রধানমন্ত্রী বলেন, সজীব ওয়াজেদ জয়ের সম্পদ নিয়ে বিএনপি চেয়ারপারসন খালেদা জিয়া যে তথ্য দিয়েছেন তা মিথ্যা। ইতিমধ্যে জয় বিএনপি চেয়ারপারসনের প্রতি চ্যালেঞ্জ ছুড়ে দিয়েছে, সেই তথ্যের সত্যতা প্রমাণের জন্য। আশা করি, বিএনপি চেয়ারপারসন চ্যালেঞ্জের জবাব দেবেন। তিনি বলেন, বিএনপি ক্ষমতায় থাকার সময় বিএনপি-জামায়াত জোট তাঁকে অনেকবার হত্যার ষড়যন্ত্র করেছে। কিন্তু সফল হতে পারেনি। এখন তাঁরা জয়কে হত্যার ষড়যন্ত্র করছে। যুক্তরাষ্ট্রে জয়কে হত্যার, অপহরণের ষড়যন্ত্র হয়েছিল। এটা যুক্তরাষ্ট্রের আদালতে প্রমাণিত। সাংবাদিক শফিক রেহমান ও আমার দেশ পত্রিকার ভারপ্রাপ্ত সম্পাদক মাহমুদুর রহমান সেই ষড়যন্ত্রের সঙ্গে ছিলেন। তারা দুজন জড়িত। যুক্তরাষ্ট্রে বিএনপি নেতার ছেলে এফবিআই এজেন্টকে টাকা দিয়ে কিনে ফেলেছিল। খালেদা জিয়াকে উদ্দেশ্য করে তিনি বলেন, আমি আমার ছেলে মেয়েকে উচ্চশিক্ষায় সুশিক্ষিত করে গড়ে তুলেছি, আপনার ছেলেদের মতো দুর্নীতিবাজ, অর্থপাচারকারী চোর- চোট্টা বানাইনি। দেশের সেবা করা শিখিয়েছি। আজ ডিজিটাল বাংলাদেশের যেসব কর্মকান্ড সব জয়’র কাছ থেকেই নেয়া। আমি মা হয়ে তার কাছ থেকে শিখছি। তিনি বলেন, বিশ্বের সেরা দুর্নীতিবাজদের যে তালিকা প্রকাশ করা হয়, সেখানে বিএনপি নেত্রীর ছেলের নাম এসেছে। তারা দুর্নীতি করেছে বলেই ভাঙ্গা সুটকেস ও ছেঁড়া গেঞ্জির মালিক হয়েও শত শত কোটি টাকার মালিক হতে পেরেছে।
আদালতে খালেদা জিয়ার হাজিরা না দেয়ার সমালোচনা করে শেখ হাসিনা বলেন, আমার নামেও মামলা হয়েছিল, আমি তখন বিদেশে ছিলাম। আমি বলেছিলাম আমি মামলা মোকাবিলা করবো। তারপরে আমাকে দেশে আসাতে বাধা দেয়ার চেষ্টা করা হলো। জীবনের হুমকি দেয়া হল। আমি কিন্তু ফিরে এসেছি, সৎ সাহস ছিল বলেই মামলা মোকাবিলা করতে পেরেছি। আজ আমার প্রশ্ন, বিএনপি নেত্রী সোহরাওয়ার্দি উদ্যানে গিয়ে বক্তৃতা দিতে পারেন, সংবাদ সম্মেলন করতে পারেন। কিন্তু আদালতে হাজিরা দেয়ার সময় অসুস্থা থাকেন। চোরের মন পুলিশ পুলিশ। আসলে উনার আত্মবিশ্বাস নেই বলেই মামলা মোকাবিলা করতে ভয় পান। জঙ্গীবাদের বিরুদ্ধে কঠোর অবস্থানের কথা তুলে ধরে প্রধানমন্ত্রী বলেন, এই মাটিতে কোন জঙ্গীবাদ সন্ত্রাসবাদের স্থান নেই। ইউনিয়ন উপজেলা ও জেলাসহ যে যেখানে আছেন সজাগ থাকবেন। কারো ছেলে-মেয়ে যেন এই ধরনের সন্ত্রাসী তৎপরাতর সাথে যুক্ত হতে না পারে। ইমামদেও প্রতি আহ্বান জানাই জঙ্গিবাদ সম্পর্কে সচেতন করার চেষ্টা করবেন। হত্যা করে কেউ বেহেশ্তে যেতে পারবেন না। এটা সকলকে বোঝাতে হবে। সরকারের সফলতা ও উন্নয়নের বিষয়গুলো তুলে ধরে প্রধানমন্ত্রী বলেন, আমাদের রাজনীতিই হচ্ছে জনগণের কল্যাণে, স্বার্থে ও দেশের উন্নয়নের জন্য। দেশের রিজার্ভ এখন ২৯ বিলিয়ন ডলারেরও বেশী, যা সত্যিই একটি ইতিহাস। প্রবৃদ্ধি ৭ ভাগের ওপরে রাখতে সক্ষম হয়েছি, দ্রব্যমূল্যে নিয়ন্ত্রণ ও মানুষের ক্রয় ক্ষমতার মধ্যে রাখতে সক্ষম হয়েছি। সরকারি কর্মকর্তা-কর্মচারীদের বেতন-ভাতা ১২৩ ভাগের বেশি বৃদ্ধি করেছি, পৃথিবীর কোন দেশ বা সরকার তা কোনদিন করতে পারেনি।  ৫ কোটিরও বেশি মানুষ এখন দরিদ্রসীমা থেকে উঠে এসেছে। দেড় কোটি  সরকারি চাকুরি দিয়েছি, কর্মসংস্থান সৃষ্টিতে বেসরকারি খাতকে উন্মুক্ত করে দিয়েছি। মাথাপিছু আয় এখন এক হাজার ৪৪৬ মার্কিন ডলার। তিনি আরো বলেন, দেশ খাদ্যে আজ শুধু স্বয়ংসম্পূর্ণই নয়, রফতানির দেশে পরিণত হয়েছি। বিশ্বমন্দার মধ্যেও ৩২ দশমিক বিলিয়ন ডলার রফতানি করেছি। দেশে এখন শিক্ষার হার ৭১ ভাগ অতিক্রম করেছে। স্বাস্থ্যসেবা জনগণের দোরগোড়ায় পৌঁছে দিতে প্রত্যেক বিভাগে একটি করে মেডিক্যাল বিশ্ববিদ্যালয় ও প্রত্যেক জেলায় একটি করে বিশ্ববিদ্যালয় স্থাপনেরও পরিকল্পনা সরকারের রয়েছে। ডিজিটাল বাংলাদেশ গড়ে তুলেছি। ৩ জির পর এখন ৪-জি চালু হচ্ছে। উন্নত প্রযুক্তির ব্যবহারের ফলে মানুষের জীবনধারাই বদলে দিয়েছে। দেশ আজ সবদিক থেকে এগিয়ে যাচ্ছে। এগিয়ে যাবেই।

আরও দেখুন

162618

শেখ হাসিনার সাফল্য ও সুনাম বিঘ্নিত করছে অপরাধীরা: তোফায়েল আহমেদ

ভোলা প্রতিনিধি: নিষ্ঠুর নির্যাতনের শিকার মাদরাসাছাত্রী নুসরাত জাহান রাফিকে হত্যাসহ দেশে চলমান সামাজিক অবক্ষয়ের কথা ...

Leave a Reply

%d bloggers like this: